বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তিতুমীর কলেজে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে “বারাসাত ব্যারিকেড” কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৮ নভেম্বর) ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী নায়েক নূর মোহাম্মদ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
নায়েক নূর মোহাম্মদ বলেন, “চলমান ‘বারাসাত ব্যারিকেড’ নামক কর্মসূচির অংশ হিসেবে কাল ক্যাম্পাসে অবস্থান করবো। সন্ধ্যা আটটা পর্যন্ত আমরা কয়েকজন সচিবালয়ে ছিলাম। সেখানে আমাদের বলা হয়েছে একটা কমিটি গঠন করে দেবেন। পরে যখন দেখি দিচ্ছে না তখন আবার জানতে চাইলে আমাদের জানানো হয় চারজন উপদেষ্টা এ বিষয়ে আমাদের সাথে বসবেন।”
মঙ্গলবার আবার শিক্ষার্থীদের মন্ত্রণালয় থেকে ডাকা হবে বলে জানান তিনি।
সোমবার বেলা ১১টা থেকে রাত সাড়ে ৯ পর্যন্ত দফায় দফায় মহাখালী রেল ক্রসিং ও আমতলী এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কাল অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লোজডাউন কর্মসূচি থাকবে। কোনো ক্লাস, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।
এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “তিতুমীর কলেজের ভাইবোনদের আমরা বলবো আপনারা শান্ত হোন। আপনাদের সাথে অবশ্যই কথা হবে। সাত কলেজের ভাই-বোনদের সাথে তো এক ধরনের কনসালটেশন হচ্ছে। কথা হচ্ছে। আমরা মনে করি এটারও আশু সমাধান হবে।”
উল্লেখ্য, বারাসাত বিদ্রোহ ছিল তিতুমীরের নেতৃত্বে বাঙালিদের বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে প্রথম সফল প্রতিরোধ আন্দোলন। স্থানীয় জমিদারদের শোষণ থেকে কৃষক-প্রজাকে মুক্তির জন্য তিতুমীর যে আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিলেন তা ঘটনা পরস্পরায় বারাসাত বিদ্রোহে পরিণতি লাভ করে। তার এ বিদ্রোহ এদেশ থেকে ইংরেজ শোষণ ও শাসন উচ্ছেদের প্রকৃতি ধারণ করেছিল।



সন্ধ্যার পর ফের সড়কে তিতুমীরের শিক্ষার্থীরা
মহাখালীতে সড়ক-রেলপথ অবরোধ, আটকে আছে ২ ট্রেন
মহাখালীতে অবরোধকারীদের ছোঁড়া পাথরে শিশুসহ ট্রেনের একাধিক যাত্রী আহত