উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ রাত ১০টায় লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। তার সফরসঙ্গী হিসেবে যাবেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য, দলীয় নেতা, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও ব্যক্তিগত পরিচর্যাকারী ফাতেমা বেগম।
বিএনপির চেয়ারপার্সনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হচ্ছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের মধ্যে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন- ডা. ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী, ডা. মো. সাহাবুদ্দিন তালুকদার, ডা. নুর উদ্দিন আহমদ ও ডা. মোহাম্মদ আল মামুন।
এছাড়াও তার সঙ্গে যাবেন তার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান। দলীয় নেতাদের মধ্যে আছেন- উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, তার একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, ব্যক্তিগত সহকারী মো. মাসুদুর রহমান, প্রটোকল অফিসার এসএম পারভেজ এবং গৃহকর্মী ফাতিমা বেগম ও রূপা শিকদার।
এর আগে সোমবার গুলশান বিএনপির চেয়ারপারনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহিদ জানান, কাতারের আমিরের দেওয়া বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে খালেদা জিয়া কাতার হয়ে লন্ডন যাবেন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে থাকা ৪ জন বিশেষ চিকিৎসকও খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হবেন।
এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব আব্দুস সাত্তার জানান, রাত ৮টায় গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে বের হবেন খালেদা জিয়া। রাত ৯টায় বিমানবন্দরে উপস্থিত ও ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করবেন তিনি।
উল্লেখ্য, ৩ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন থেকে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। ২০১৮ সালে একটি দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর তার অসুস্থতা বেড়ে যায়। এর মধ্যে কয়েকবার তিনি জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণেও পড়েন। একাধিকবার তার মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে তার বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হলেও সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতির এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর দুর্নীতির যে ২টি মামলায় তিনি কারাবন্দী হয়েছিলেন, সেগুলোর রায় বাতিল করেন আদালত।



যেসব সুবিধা রয়েছে খালেদা জিয়াকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে