Saturday, September 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কেরানীগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে গণধর্ষণ, জড়িতরা ‘কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য’

এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৫, ০৮:১১ পিএম

দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনার মধ্যে এবার ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে (২০) গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণেরা “কিশোর গ্যাংয়ের” সদস্য বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের ভাষ্যমতে, যে বাড়িতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সেটি মাসখানেক ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এই সুযোগে সন্ধ্যা হলেই সেখানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদক ও জুয়ার আসর বসাত।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- আশরাফুল ইসলাম সিয়াম (২০) ও জিৎ সরকার (১৯)।

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগী ওই নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার জাজিরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. মোশারফ হোসেন মিয়া সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে তিনি জানান, শনিবার (৮ মার্চ) রাতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও ঋষিপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে ওই নারীকে গণধর্ষণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় বাকি ২ আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। পরিবারের সঙ্গে ওই নারীর কোনো যোগাযোগ নেই। তার স্বামীর মোবাইলটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি আছেন। আমরা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় বাকি ২ আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। পরিবারের সঙ্গে ওই নারীর কোনো যোগাযোগ নেই। তার স্বামীর মোবাইলটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি আছেন। আমরা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।”

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী রবিবার সকালে ৪ জনকে আসামি করে কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তাদের মাঝে দুজন পলাতক।

ওই বাড়িটির দেখভাল করেন মন্টু মিয়া নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘‘এই বাড়ির মালিক আমার খালাতো ভাই। সে বিদেশ থাকে। পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে এখানে এক পরিবারকে থাকতে দিই। মাসখানেক আগে তারা চলে গেলে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে। রবিবার সকালে লোকমুখে জানতে পারি, কে বা কারা এ বাড়িতে এক মেয়েকে এনে ধর্ষণ করেছে।”

এ ঘটনায় ঋষিপাড়ার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘‘রাত ১টার দিকে ওই বাড়ি থেকে এক মেয়ের চিৎকার শুনতে পাই। তখন ঘরের জানালা খুলে দেখি ওই বাড়িতে লোকজনের ভিড়। পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারি, কয়েকজন ছেলে এক মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। এসময় এলাকাবাসী দুই ধর্ষককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।’’

ঘটনা প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঋষিপাড়া এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, “ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার আশরাফুল, জীত, তার সহযোগী লিমন ও ইয়াসিন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তারা মাদক ব্যবসা ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত। তারা প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ওই বাড়িতে মাদক সেবন ও জুয়া খেলতো। তাদের সঙ্গে কিশোর বয়সী ছেলেরাও আসত। ভয়ে এলাকাবাসী তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে সাহস পেতেন না।”

এলাকাবাসীরা জানান, এলাকায় পুলিশের টহল থাকলে এ ঘটনা ঘটত না। এছাড়াও তারা ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “রবিবার ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। এ মামলায় ২ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং দুইজন এখনো পলাতক। তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

   

About

Popular Links

x