Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অনশন প্রসঙ্গে কুয়েট ভিসি: বেশিরভাগ শিক্ষার্থী আন্দোলনের বিপক্ষে

এক দফা দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনের ২৬ ঘণ্টা অতিবাহিত

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:১৯ পিএম

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনের ২৬ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অনশন চলমান রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অনশনে ৩২ শিক্ষার্থী ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছেন। একজন শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় গত রাতেই অনশন থেকে সরে যান। এদিকে ছাত্রদের অনশন ভাঙাতে তৎপর রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ দপ্তর।

এদিকে অধিকাংশ শিক্ষার্থী আন্দোলন চায় না জানিয়ে কুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘‘যেসব শিক্ষার্থী এখন অনশন করছে, তাদের কোনোভাবে মেজরিটি বলা যাবে না। এখানে অল্প কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। অন্যদিকে মেজরিটি সংখ্যক শিক্ষার্থী এসব আন্দোলন চায় না। আন্দোলনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নেই। তারা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরতে চান।”

পদত্যাগ নয়, আলোচনায় সমাধান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমি কী করে বুঝব যে মেজরিটি শিক্ষার্থী এ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত? তাই পদত্যাগে নয়, সমাধান আলোচনায়। সে পথটিই তৈরির কাজ চলছে। যেসব শিক্ষার্থী অনশন করছে, তাদের সঙ্গে শিক্ষকরা যোগাযোগ রাখছেন। তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে। আলোচনা করে সমাধান করা ছাড়া কোনো পথ নেই।”

কুয়েট উপাচার্য আরও বলেন, “আমরা সমাধানের জন্য প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলোচনায় আনার চেষ্টা চলছে।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে জানিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, ‘‘কুয়েটে দায়িত্ব নেওয়ার আট মাস চলছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি সব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেনে নেয়। চলমান আন্দোলন শুরুর পর থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। শিক্ষকরা গিয়েও বারবার তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন। অনশনকারীরা কারও কথা শুনছে না।”

এর আগে কুয়েটের ৩২ শিক্ষার্থী ভিসির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে সোমবার (২১ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৪টায় স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সামনে অনশন শুরু করে। এর আগে এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রবিবার (২০ এপ্রিল) তারা এক সংবাদ সম্মেলনে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, ১৮ ফেব্রুয়ারি সংঘর্ষের পর থেকে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এ উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের পর থেকে শিক্ষার্থীরা ভিসি, প্রো-ভিসির অপসারণসহ ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ২৫ ফেব্রুয়ারী ভিসির বাসভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৯তম (জরুরী) সিন্ডিকেট সভায় সার্বিক নিরাপত্তার কারণে ২৬ ফেব্রুয়ারী সকাল ১০টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত না মেনে হলে অবস্থান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অপ্রীতিকার ঘটনা এড়াতে ২৬ ফেব্রুয়ারী সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে ঈদ-উল-ফিতরের পর ১৩ এপ্রিল দুপুর ৩টায় পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।

এরপর তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। বিকেলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানায়। তারা হলগুলো খুলে দেওয়ার জন্য রাত ৮টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষ তাদের সে দাবি মেনে না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে রাত্রিযাপন করে। পরে আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা ১৩ এপ্রিল বিকেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিলে আন্দোলন আবারও দানা বাঁধতে থাকে।

গত সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তের কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে আগামী ২ মে থেকে আবাসিক হল খুলে দেওয়া ও ৪ মে থেকে সব শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

   

About

Popular Links

x