Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

খুলে দেওয়া হলো কুয়েটের সব আবাসিক হল

যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭টি আবাসিক হলের প্রত্যেকটিতে ইতোমধ্যে অবস্থান করছেন শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৩৬ পিএম

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সব আবাসিক হল ২ মে-এর পরিবর্তে আজই খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সিন্ডিকেটের ১০২তম (জরুরী) সভায় আলোচনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেছেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। ভাইস চ্যান্সেলরের নির্দেশক্রমে রেজিস্ট্রার মো. আনিছুর রহমান ভূঞার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১০১তম জরুরী সভার সিদ্ধান্তে মোতাবেক আগামী ৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার একাডেমিক কার্যক্রম চালু করা এবং ২ মে আবাসিক হলসমূহ খোলার বিষয়ে বলা হয়েছিল। তবে সিন্ডিকেটের ১০২তম জরুরি সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ ২ মে’র পরিবর্তে আজ বুধবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে খোলা হবে।

এদিকে কুয়েট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে কুয়েট শিক্ষক সমিতি। দাবির সঙ্গে একমত প্রকাশ করার পরও ছাত্ররা শিক্ষকদের মর্যাদা দেয়নি বলেও অভিযোগ তাদের। শিক্ষকদের অপমান-অপদস্থের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত থাকারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে শিক্ষক সমিতি। উপাচার্য (ভিসি) দোষ করে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তারা। তবে দোষী না হলে ভিসির মর্যাদা সম্মুন্নত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এর আগে কুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনশন প্রত্যাহারের জন্য ক্যাম্পাসে এসে সরাসরি অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা অনশনে থাকবেন। প্রয়োজনে মারা যাবেন। শিক্ষার্থীরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে শিক্ষা উপদেষ্টাকে পাল্টা অনুরোধ করেন।

এদিকে কুয়েট শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনের ৪৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছে বিকেল পৌনে ৫টায়। ইতোমধ্যে দেখা গেছে, ৭ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বেলা ১১টার দিকে আরও এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হন।

উল্লেখ্য, ১৮ ফেব্রুয়ারি সংঘর্ষের পর থেকে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এ উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের পর থেকে শিক্ষার্থীরা ভিসি, প্রো-ভিসির অপসারণসহ ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ২৫ ফেব্রুয়ারী ভিসির বাসভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৯তম (জরুরী) সিন্ডিকেট সভায় সার্বিক নিরাপত্তার কারণে ২৬ ফেব্রুয়ারী সকাল ১০টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত না মেনে হলে অবস্থান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অপ্রীতিকার ঘটনা এড়াতে ২৬ ফেব্রুয়ারী সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে ঈদ-উল-ফিতরের পর ১৩ এপ্রিল দুপুর ৩টায় পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।

এরপর তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। বিকেলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানায়। তারা হলগুলো খুলে দেওয়ার জন্য রাত ৮টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষ তাদের সে দাবি মেনে না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে রাত্রিযাপন করে। পরে আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা ১৩ এপ্রিল বিকেল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিলে আন্দোলন আবারও দানা বাঁধতে থাকে।

গত সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তের কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে আগামী ২ মে থেকে আবাসিক হল খুলে দেওয়া ও ৪ মে থেকে সব শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

   

About

Popular Links

x