Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কুয়েট শিক্ষকদের কর্মবিরতি তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত

শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতিতে অনড় থাকার ঘোষণা

আপডেট : ০৬ মে ২০২৫, ০৫:২৪ পিএম

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালু হওয়ার পর তৃতীয় দিনেও ক্লাসে ফিরে যাননি শিক্ষকরা। তাদের লাঞ্ছনার ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতিতে অনড় রয়েছেন শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুরে ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, ক্লাসরুমগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। হলের শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই নিজ নিজ কক্ষে আছেন। কিছু শিক্ষার্থীকে হলের সামনে আড্ডা দিতে ও ক্যাম্পাসের সড়কগুলোতে চলাচল করতে দেখা যায়। ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসেনি। প্রধান গেটে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো শিক্ষকরা ক্লাস না ফেরায় বিপাকে পড়েছেন সাড়ে ৭ হাজার শিক্ষার্থী। ৭৪ দিন বন্ধের পর কুয়েট খুললেও শিক্ষকরা ক্লাসে যাননি।

এদিকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হযরত আলী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। তবে এখনও কোনো ফলপ্রসূ সমাধান আসেনি।

এর আগে, সোমবার (৫ মে) ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হযরত আলী প্রথমে শিক্ষার্থীদের এবং পরে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি দ্রুত ক্লাসে ফেরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং উভয়পক্ষকে নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীদের শিক্ষকদের কাছে পুনরায় ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। এরপর বিকেলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ক্লাস শুরুর দাবিতে উপাচার্যের কাছে লিখিত আবেদন জানান।

তবে শিক্ষকদের অনড় অবস্থান ফুটে উঠেছে শিক্ষক সমিতির সোমবারের সাধারণ সভায়। সভা শেষে সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং শিক্ষকদের লাঞ্ছিতকারীদের সাত কর্মদিবসের মধ্যে চিহ্নিত করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় শিক্ষকেরা সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখবেন। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সাইবার বুলিং, সামাজিক অবমাননা ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।”

এদিকে, শিক্ষকদের লাঞ্চিত করার ঘটনায় এরই মধ্যে দুই দফা ক্ষমা চেয়েছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু শিক্ষকরা ক্লাসে না ফেরায় বিপাকে পড়েছেন ৭,৫৬৫ জন শিক্ষার্থী। কবে থেকে আবার ক্লাস শুরু হবে তা এখনও অনিশ্চিত। কুয়েটে আগে থেকেই প্রায় দেড় বছরের সেশনজট রয়েছে। এর ওপর গত আড়াই মাস কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি। এ অবস্থা চলমান থাকায় বেড়েছে সেশনজট।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে সংঘর্ষের পর থেকে বন্ধ রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষা। এর আগে কখনও এত দীর্ঘ সময় ধরে অচলাবস্থা দেখেনি কুয়েটের কেউ।

 

   

About

Popular Links

x