‘যুবদল দেশবিরোধী চক্রান্ত মোকাবিলায় প্রস্তুত’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অঙ্গসংগঠন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। তার রাজনীতির পথচলা শুরু হয় ১৯৮৫ সালে ছাত্রদলের মাধ্যমে। সংগঠনির বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে যোগ দেন যুবদলে। ২০২২ সালে তিনি সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তাকে যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব দেয় বিএনপি। সম্প্রতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নার সঙ্গে ঢাকা ট্রিবিউনের তানভীর হাসান চলমান বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন।

ঢাকা ট্রিবিউন: পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে যুবদল কী ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে?

আব্দুল মোনায়েম মুন্না: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল একটি বৃহৎ সংগঠন হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ বাংলাদেশের কাজ করে যাচ্ছে। আমরা কর্মক্ষম যুবদল প্রতিষ্ঠা করতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সফর করছি। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে বার্তাগুলো দিচ্ছেন তা আমরা নেতাকর্মী ও দেশবাসীর মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছি। তারেক রহমানের বার্তা হচ্ছে- ভয় দেখিয়ে নয়, উদারতা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে হবে। রাজনীতির যে গুণগত পরিবর্তন হচ্ছে তার সঙ্গে মিল রেখে যুবসমাজকে সাধারণ মানুষের সাথে কাজ করার জন্য তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরণেরে অন্যায়ের সঙ্গে না জড়ানোর জন্য কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। তারেক রহমানের সেই বার্তা আমরা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিচ্ছি। আমরা নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টিকারী কাজ করা যাবে না। এমন কাজ করা যাবে না যাতে মানুষ যুবদল এবং বিএনপির প্রতি ক্ষুব্ধ হয়। যুবদল সবসময় সাধারণ মানুষকে নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসে।

মানুষের মাঝে বিএনপির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে যুবদল কী ধরনের কাজ করছে?

আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ১৫ বছর দেশে অপশাসন চালু রেখেছিল। আমরা আওয়ামী লীগের মতো জন বিচ্ছিন্ন দল নাই। আমাদের দলে কেউ যদি অন্যায় করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। বিএনপি কিন্তু অন্যায়কারীদের বিষয় অস্বীকার করছে না। আওয়ামী লীগ তাদের অন্যায় স্বীকার করত না। তাদের নেতাকর্মী কোনো অন্যায় করলে তারা কোনো ব্যবস্থা নিতো না। আমাদের চেয়ারম্যান আগামী দিনের বাংলাদেশে কীভাবে গড়ে তুলবেন তার বার্তা তিনি ৩১ দফার মধ্যে দিয়ে দিয়েছেন। বিএনপি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক দল। আমাদের এই দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের পুত্র তারেক রহমান। বিএনপি অপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নেয় না। গতানুগতিক রাজনৈতিক ধারার বাইরে গিয়ে আমার রাজনীতি করছি। যারাই অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে বিএনপিসহ সকল অঙ্গসংগঠন ব্যবস্থা নিচ্ছে।

যুবদলের যারা চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ সঙ্গে যু্ক্ত হচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন?

যুবদল বৃহৎ একটি সংগঠন। আমাদের সংগঠনে লাখ লাখ নেতাকর্মী রয়েছে। তারা দীর্ঘ ১৭ বছর অন্যায় অত্যাচার সহ্য করেছেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনে অনেকেই জীবন দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ তো বলেছিল, তাদের পতন হলে ৫ লাখ নেতাকর্মী মারা যাবে। কিন্তু বাস্তবে তো সেই রকম কিছু হয়নি। সারাবিশ্বের অতীতের বিপ্লবগুলো দেখেন সেখানে কী ধরনের লুটপাট হয়েছে। সেই তুলনায় আমাদের এখানে কিছুই ঘটেনি। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার সঙ্গে আমাদের কিছু নেতাকর্মীর জড়িত থাকার খবর পাওয়া গেছে। তবে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা অস্বীকার করছি না। যাদের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ পেয়েছি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। কিছু ক্ষেত্রে অনেকে যুবদলের নাম ভাঙিয়ে অপরাধ করছে। এদের ব্যাপারে আমি দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

আগামী নির্বাচন নিয়ে যুবদলের পরিকল্পনা কি?

সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। বিএনপির যে দেশব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে ইতোমধ্যে তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। মানুষ আপসহীন নেত্রী বেগম জিয়াতে পছন্দ করে। উনি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেন নাই। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আপসহীন ভাবে আমাদের দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনিও অন্যায়ের সঙ্গে আপন করেন নাই। এভাবেই বিএনপি সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। যুবদল সব সময় বিএনপির অঙ্গসংগঠন হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। আগামী নির্বাচনে যুবদলের নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রার্থীদের পাশে থেকে গণতান্ত্রিক উপায়ে কাজ করে যাবে।

তরুণদের নিয়ে যুবদলের ভাবনা কী?

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুবদলকে বিএনপির প্রথম অঙ্গসংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি যুবকদের স্বাবলম্বী করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আমাদের নেতা তারেক রহমান আমাদের কিছু পরামর্শ দিয়েছেন যুবসমাজকে নিয়ে কাজ করার জন্য। আমরা সেগুলো খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করবো। 

যুবদল নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আপনার কী বার্তা থাকবে?

যুবদল বৃহৎ একটি সংগঠন। আমাদের নেতাকর্মীদের প্রতি প্রথমেই আমার একটি অনুরোধ থাকবে যে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। রাজনীতির যে গুণগত পরিবর্তন হচ্ছে তার সঙ্গে মিল রেখে আমাদের রাজনীতি করতে হবে। জনগণের ভাষা বোঝার জন্য নেতাকর্মীদের চেষ্টা করতে হবে। আমরা বিভিন্ন জেলা সফর করছি সেখানেও একই বার্তা দিচ্ছি যে, জনগণের পাশে থাকতে হবে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে ধারণ করে আগামীতে দেশবিরোধী সকল চক্রান্ত মোকাবিলা করে যেতে হবে।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কী ধরনের সম্পর্ক থাকা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

একটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যেমন সুসম্পর্ক থাকা দরকার ভারতের সঙ্গে ঠিক তেমনই সম্পর্ক থাকা উচিত বলে মনে করি। একটি বৃহৎ দেশ হিসেবে তাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। তবে আমাদের সার্বভৌমত্ব একটি বড় বিষয়। আমরা বাংলাদশিরা বাংলাদেশকে ভালোবাসি। আমাদের দেশের সম্মান, স্বাধীনতা অখণ্ড রাখার যে প্রত্যয় সেটা আমরা বজায় রাখবো। জাতীয়তাবাদী চেতনা ধারণ করে আমরা ভারতে সঙ্গে সুপ্রতিবেশী সুলোভ আচরণ চাই।