সিলেটের সাদাপাথর এলাকা থেকে পাথর সরিয়ে বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখা পাথরগুলো ফিরিয়ে দিতে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন। আল্টিমেটামের পর থেকে অনেকে নিজ উদ্যোগে পাথর ফিরিয়ে দিচ্ছেন।
শনিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সর্বসাধারণের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সভায় বলা হয়, তিন দিন পরে যদি কারও কাছে সাদাপাথর পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরপর থেকে নিজ উদ্যোগে পাথর ফিরিয়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। শনিবার রাত থেকেই অনেক পাথর ব্যবসায়ী নিজ খরচে ট্রাকযোগে সাদাপাথর ফিরিয়ে দেন।
এই ব্যাপারে সিলেট সদর উপজেলার ধোপাগুল এলাকার স্টোন ক্রাশার মিল ব্যবসায়ী কাজী ফরহাদ হোসেন বলেন, “আমি তিন মাস আগে পাথর কিনেছিলাম। এরপর আর কোনো পাথর কিনিনি। তবু জেলা প্রশাসক যেহেতু বলেছেন, তাই আমি তার প্রতি সম্মান রেখে আমার মিলে থাকা সব সাদা পাথর ফিরিয়ে দিয়েছি।”
এদিকে, ব্যবসায়ীরা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি পাথর উদ্ধারে অভিযানও চলছে। এসব পাথর সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রে প্রতিস্থাপনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খুশনূর রুবাইয়াত বলেন, “শনিবার রাত ১২টা থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত অন্তত ১০০ ট্রাক সাদাপাথর এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সিলেটের ধোপাগুল এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী নিজ উদ্যোগে তাদের সংগ্রহে থাকা সাদাপাথর স্পটে পৌঁছে দিয়েছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা বিষয়টি তদারকি করছেন।”
এদিকে, পাথর ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনের মাইকিংসহ প্রচারণা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। শনিবার এই ব্যাপারে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলম বলেন, “এখনও কোম্পানীগঞ্জ ও সিলেট সদর উপজেলায় কিছু পাথর অনেকে লুকিয়ে রেখেছেন। এসব পাথর উদ্ধারে শনিবার এই দুই উপজেলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা করা হয়েছে।”
সভা শেষে তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে যাদের কাছে এখনও সাদাপাথর আছে তারা নিজ খরচে, নিজ উদ্যোগে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকায় পৌঁছে দেবেন। যেহেতু জনপ্রতিনিধিরা সরকারের অংশ, তাই এ পাথর উদ্ধারে তাদেরও দায় রয়েছে। যার যার এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে পাথর ভোলাগঞ্জে পৌঁছানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন তারা। নির্ধারিত সময়ের পর যার কাছে সাদা পাথর পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমনকি নির্ধারিত সময়ের পর যে এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাথর পাওয়া যাবে, ওই এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সারওয়ার আলম।



কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর ফেরত দিতে প্রশাসনের ৩ দিনের আল্টিমেটাম