হবিগঞ্জের মনতলায় ট্রেন দুর্ঘটনার ১৯ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরবর্তীতে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুর্ঘটনা কবলিত স্থান অতিক্রম করে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর ঢাকার রেলওয়ে পরিবহন কর্মকর্তা মেহেদী হাসানকে প্রধান করে রেল বিভাগের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একইভাবে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপর একটি পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন প্রদান করতে বলা হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-সিলেট এবং চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথে চলাচলকারী একাধিক যাত্রীবাহি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। দুর্ঘটনার পর বিকেল ৪টা থেকে যাত্রীরা নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। এর আগে চট্টগ্রাম থেকে একটি ডিজেলবাহি ট্রেন মোট ১৬টি বগি নিয়ে সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। পথে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা নামক স্থানে তেলবাহি ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ৫টি অয়েল ট্যাংকারের বগি রেললাইন থেকে ছিটকে পড়ে।
এসময় একটি অয়েল ট্যাংকার রেলসেতু থেকে ছিটকে খালে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার কারণে প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এদিকে দুর্ঘটনার পর পর তেলবাহি ট্যাংকারগুলো থেকে ডিজেল নির্গত হতে থাকে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তেল সংগ্রহ করার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ, বিজিবি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদস্যরাও ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ট্যাংকারগুলোতে জ্বালানি তেল রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ তাদেরকে সর্বাত্মক সহায়তা করবে।



