জুলাই আন্দোলনে প্রথম নিহত রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আগামীকাল।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা রয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায়ের দিন ধার্য করেন।
প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছিল। গত বছরের ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে এ মামলার বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আমরা আশা করছি যে, এ মামলায় অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি। সে কারণে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি।“
তিনি জানান, এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৫ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।
যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং আনোয়ার পারভেজ আপেলের পক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু তাদের বেকসুর খালাস চান।
এ মামলায় ৩০ জন আসামির মধ্যে ২৪ জন পলাতক এবং ছয়জন গ্রেপ্তার অবস্থায় কারাগারে আছেন।
গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন, এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ আপেল।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হন। সেদিন দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদকে পুলিশের গুলি করার ভিডিও সংবাদমাধ্যমে প্রচার হলে ছাত্র-জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। পরদিন থেকে সারাদেশে ডাকা “কমপ্লিট শাটডাউন” কর্মসূচি।
মামলার পর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে ৩০ জনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। ২০২৫ সালের ২৪ জুন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। এরপর ৩০ জুন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।



