Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্বল্প আয়ের পরিবারে স্বস্তি আনছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

সরকারি এই কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীরা সরাসরি ভাতা পাচ্ছেন 

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা, অঙ্কটা খুব বড় নয়। তবে এই সামান্য অর্থই অনেক নারী পরিবারের জীবনে স্বস্তি এনে দিচ্ছে। গত ১০ মার্চ পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া সরকারের “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচির আওতায় এখন হাজারো নারী নিয়মিত এই ভাতা পাচ্ছেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবন বদলে দিচ্ছে।

রাজধানীর কড়াইল বস্তি এলাকায় বসবাসকারী রহিমা বেগমের জন্য মাসের শেষটা মানেই ছিল দুশ্চিন্তা। স্বল্প আয়ের সংসারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে প্রায়ই হিমশিম খেতে হতো। এখন ফ্যামেলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট এই অর্থ পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে তার জীবনে।

“টাকাটা হাতে থাকলে অন্তত চাল-ডাল নিয়ে চিন্তা কম হয়,” বলেন তিনি। “আগে ধার করতে হতো, এখন সেই চাপটা একটু কমেছে।”

ঢাকার নবাগঞ্জের সেলিনা আক্তার তিন সন্তানের মা। স্বামীর স্বল্প আয়ে সন্তানদের পড়াশোনর খরচ চালানো ছিল কঠিন। “ছেলের স্কুল ফি বাকি পড়ে থাকত। এখন অন্তত সময়মতো দিতে পারছি,” তিনি বলেন।

রাজবাড়ীর পাংশার রুবিনা বেগম বলেন, “সব খরচ না করে একটু একটু করে জমাচ্ছি। ভাবছি সামনে কিছু একটা কাজ শুরু করব।”

ভৈরবের হালিমা বেগম বলেন, “আগে স্বামীর আয় না থাকলে পুরো সংসার থেমে যেত। এখন অন্তত নিজের হাতে কিছু টাকা থাকে, দরকারে কাজে লাগাতে পারছি।”

পতেঙ্গার সেলিনা আক্তার তিন সন্তানের মা। স্বামীর আয় অনিয়মিত হওয়ায় সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো ছিল কঠিন। এখন এই ভাতা তার জন্য বড় সহায়তা।

“ছেলের স্কুল ফি বাকি পড়ে থাকত। এখন অন্তত সেটা সময়মতো দিতে পারছি,” বলেন তিনি।

জানা গেছে, সরকারি এই কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ভাতা পাচ্ছেন। ফলে ভাতা পেতে কোনো ঝামেলা বা অতিরিক্ত খরচের প্রয়োজন হচ্ছে না।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য এই কর্মসূচিতে ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে প্রথমে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।

এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১,৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই শেষে ৪৭,৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। পরবর্তীতে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা নিচ্ছেন কি না, সরকারি চাকরি বা পেনশন সুবিধা পাচ্ছেন কি না- এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭,৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই ভাতার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরাসরি নগদ সহায়তা নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য স্বস্তি তৈরি করছে। বিশেষ করে নারীদের হাতে অর্থ পৌঁছানোয় তা পরিবারের প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।

   

About

Popular Links

x