ভক্তরা জড়ো হয়ে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের গুজবে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দরবার প্রধান আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের কবরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) উপজেলার ফিলিপনগরে নিহত শামিমের মরদেহ উত্তোলনের সংবাদে তার কবরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “মরহুমের কাছের ভক্তবৃন্দের সাথে আমরা কথা বলেছি এবং তাদেরকে আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারেন না এবং এটা নিয়ে ভাবারও অবকাশ নেই। তারা আমাদের যুক্তিগুলো বুঝেছেন এবং তারা আমাদের কথা দিয়েছেন যে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করবেন, এমন চিন্তাও করবেন না।”
প্রসঙ্গত, ১১ এপ্রিল দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত শামিম বাবার দরবার শরিফে বিক্ষুব্ধ জনতা ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে দরবার প্রধান আব্দুর রহমান ওরফে শামিম নিহত হন। ১২ এপ্রিল বিকেলে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় সোমবার নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ খাজা আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়। এ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে।
স্থানীয়দের দাবি, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে শামিমকে একটি অনুষ্ঠানে ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিতে দেখা যায়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা দরবারটিতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে ঘটনাস্থলেই শামিম নিহত হন। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হন।



