সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দা নাখলু আক্তারের মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
মেয়ের মনোনয়ন প্রাপ্তিতে তিনি খুশি জানিয়ে মা বললেন, “রাজনীতি নিয়ে আমাদের (মা-মেয়ে) মাঝে কোনো মতানৈক্য হয়নি। এ নিয়ে কোনো ধরনের কথা হয়নি। শশুর বাড়িতে থাকার সুবাদে আমার মেয়ে ঢাকাতেই রাজনীতি করেছে।”
নাদিয়া পাঠান পাপন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সদস্য। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ইউনিয়ন পর্যায়ের রাজনীতি থেকে শুরু করে তিনি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পদ পান। জুলাই অভ্যুত্থানেও তিনি সরাসরি মাঠে ছিলেন।
এদিকে, নাদিয়া পাঠানের মা সৈয়দা নাখলু আক্তার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার পাশাপাশি জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা সোমবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নাই। মা সৈয়দা নাখলু আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি, বিজয়নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন। কিন্তু তার মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন বর্তমানে বিএনপি’র সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মনোনীত হয়েছেন।”
বিজয়নগরের সন্তান হওয়ায় দলমতের উর্ধ্বে উঠে তিনি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর কথা স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন।
বিএনপি’র মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার বিকেলে নাদিয়া পাঠান পাপনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও অপর প্রান্ত থেকে রিসিভ করা হয়নি। যার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে নাদিয়া পাঠানের মা সৈয়দা নাখলু আক্তার সাংবাদিকদের জানান, “আমি অনেক আগেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। আমার মেয়ে ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতি করতো। তবে রাজনীতি নিয়ে তার সঙ্গে কখনও আমার মতানৈক্য হয়নি।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেয়ে এমপি হলে মায়ের যে অনুভুতি হওয়ার কথা সেটাই আমার হচ্ছে।



