নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া ১২ বছরের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মায়ের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ বিষয়ে ব্রিফিং করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বুধবার (৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহে র্যাব-১৪ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন কমান্ডিং অফিসার (সিও) নায়মুল হাসান।
ব্রিফিংয়ে র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক নায়মুল হাসান বলেন, “মামলার প্রধান অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার এড়াতে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছিলেন। শেষ পর্যন্ত আজ ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে র্যাব-১৪ এর একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। মামলার পর ওই মাদ্রাসা শিক্ষক গাজীপুর, টঙ্গী ও পরে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন।”
তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মুঠোফোনও ব্যবহার করছিলেন না। গোয়েন্দা নজরদারিতে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর গৌরীপুরের সোনামপুরে এক আত্মীয়র বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।” তবে, শিশুটির ডিএনএ রিপোর্ট নিয়ে যে তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয় বলে জানান তিনি।
র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তেমন কোনো তথ্য দেননি। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ প্রয়োজনে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষক চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে সেখানে লেখাপড়া করত। শিশুটির বাবা তার মাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। তাই জীবিকার তাগিদে মা সিলেটে একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন। সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ বোধ করছিল এবং তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়। পরে তার মা সিলেট থেকে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে- ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পারেন।
গত ১৮ এপ্রিল শিশুটিকে মদন উপজেলা শহরে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। পরে এ ঘটনায় ওই শিশুর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলা হওয়ার পর থেকে আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে অজ্ঞাত স্থান থেকে গত মঙ্গলবার ওই শিক্ষকের একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তিনি নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেন।
শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওই শিশুর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসক বিভিন্ন হুমকি পাচ্ছেন এবং তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাব অধিনায়ক জানান, চিকিৎসক নানাভাবে হুমকি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তারা অবগত আছেন। তারা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।



