রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানা এলাকায় এক যুবককে গাছে বেঁধে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা উভয়েই রাজশাহী মহানগরীর বাসিন্দা।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, মতিহার থানার বাজে কাজলা এলাকার মুহিন (১৮) এবং একই থানার ধরমপুর (দক্ষিণপাড়া) এলাকার আলী হাসান মো. মুজাহিদ (২২)।
মঙ্গলবার (১২ মে) গ্রেপ্তার আসামিদেরকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে জানিয়েছে রাজশাহী মেট্রোপটিন পুলিশ (আরএমপি)।
এর আগে, সোমবার (১১ মে) রাতে রাজশাহী মহানগর পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদেরকে গ্রেপ্তারের খবর জানানো হয়।
আরএমপি আরও জানায়, গত ৯ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হৃদয়সহ ৩-৪ জন ব্যক্তি ভুক্তভোগী তুষারের বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজ করলে তুষারের বাবা জানান, তিনি বাড়িতে নেই। তিনি তুষারকে খোঁজার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা জানায়, তাকে পেলেই কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের সুপারিশ না করার জন্য হুমকি প্রদান করে অভিযুক্তরা।
পরদিন ১০ মে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তুষার অভিযুক্ত হৃদয়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে খোঁজার কারণ জানতে চাইলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে এলোপাতাড়িভাবে মারধর এবং নির্যাতন করা হয়।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবারের সদস্যরা তুষারকে উদ্ধার করে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা নাজির আলী বাদী হয়ে মতিহার থানায় শামীম (৫৫), হৃদয় (২২), আশিক (২২), মুহিন (১৮) এবং আলী হাসান মো. মুজাহিদের (২২) নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
এজাহার আমলে নিয়ে মতিহার থানা পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযান পরিচালনা করে মামলার ৪ ও ৫ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
প্রসঙ্গত, রাজশাহীতে এক যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। এই নির্যাতনের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।



রাজশাহীতে গাছের সঙ্গে বেঁধে যুবককে লাঠিপেটা