Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বেসরকারি চাকরিজীবীদের সুরক্ষায় ‘নতুন সার্ভিস রুলস’ করছে সরকার

বেসরকারি খাতে চাকরির নিরাপত্তা ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে 

আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ১২:০২ পিএম

বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের চাকরির নিরাপত্তা ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘বেসরকারি সার্ভিস রুলস’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে গত ১০ মে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, চেম্বার ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নতুন একটি বিধিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে। প্রস্তাবিত সার্ভিস রুলে ন্যূনতম বেতন, নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা দেওয়া, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, ছুটি, পদোন্নতি, আচরণবিধি, দুর্নীতির তদন্ত, শৃঙ্খলা, আইনি সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি, শিশুশ্রম, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ আদায়, মাতৃত্বকালীন ছুটি, স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, প্রতিবন্ধীদের চাকরি, চাকরি স্থায়ীকরণ, চাকরি থেকে অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬’ ও ‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫’ এ প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংযোজন আনা হবে। এ জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি অনুবিভাগ) মোস্তফা জামানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) মোস্তফা জামান জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের চাকরির নিরাপত্তাকে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রায়ই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের সুবিধামতো কর্মী ছাঁটাই করতে দেখা যায়। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বয়স হলে রাখতে চায় না। আবার নারী কর্মীরা যথাযথ মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সার্ভিস বেনিফিটও দেয় না। এসব সমস্যা দূর করতেই নতুন রুলস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়া হচ্ছে। মতামতের ভিত্তিতে নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত করা হবে।এই বিধিমালা বাস্তবায়নের দায়িত্ব শ্রম মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হতে পারে। কারণ শ্রম মন্ত্রণালয়ের ট্রাইব্যুনাল রয়েছে, যেখানে কেউ বিধি অনুযায়ী বঞ্চিত হলে প্রতিকার চাইতে পারবেন।

বুধবার (২০ মে) শ্রম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ কুদ্দুস আলী সরকার বলেন, “শ্রম আইন ২০০৬ ও শ্রম বিধিমালা ২০১৫ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) দ্বারা অনুমোদিত। এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশনও এ আইন ও বিধিমালাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারপরও দেশে বেসরকারি খাতের অনেক ক্ষেত্রে এসব আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।”

বর্তমান আইন ও বিধিমালার যেসব ক্ষেত্রে চাকরিজীবীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ঘাটতি রয়েছে, সেখানে নতুন বিধান যুক্ত করে বিধিমালা হালনাগাদের পক্ষে শ্রম মন্ত্রণালয় মত দিয়েছে। এমনকি উবার, পাঠাও ও ফুডপান্ডার মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট সার্ভিস রুলস নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আইনকানুন, বিধিবিধান থাকলেও বেসরকারি পর্যায়ে এসবের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদ। তিনি জানান, দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যারা কাজ করেন, তাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, “সমন্বিত সার্ভিস রুলস করা গেলে তা অবশ্যই ইতিবাচক হবে। বেসরকারি খাত অত্যন্ত বহুমুখী। একেক খাতের কাঠামো ও জনবল ব্যবস্থাপনা একেক রকম। ফলে সবার জন্য অভিন্ন সার্ভিস রুলস তৈরি করা বেশ চ্যালেঞ্জের।”

   

About

Popular Links

x