দেশজুড়ে ঈদ-উল-আজহার জামাত আয়োজনকে কেন্দ্র করে শেষ হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর ও জেলার বড় বড় ঈদগাহে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের জামাত। কোথাও খোলা মাঠে, কোথাও আবার আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এবারও দেশের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায়। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক জামাতে ইমামতি করবেন। হাই কোর্ট সংলগ্ন এই ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, কূটনীতিক, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ জামাতে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাতের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ। সেখানে সকাল ৯টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে “শোলাকিয়া স্পেশাল” নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চালাবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ২২ একর আয়তনের এ মাঠে পাঁচ থেকে ছয় লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন বলে আয়োজকদের দাবি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদের দিন ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং ১০টা ৪৫ মিনিটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জামাত হবে সকাল সাড়ে ৭টা ও সাড়ে ৮টায়। এছাড়া সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মসজিদে সকাল ৭টা, শহীদুল্লাহ হলে সকাল ৮টা এবং ফজলুল হক মুসলিম হল মাঠে সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়।
চট্টগ্রামের প্রধান জামাত হবে জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে সকাল ৭টায়। একই স্থানে দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৮টায়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় আরেকটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া নগরীর আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত হবে।
খুলনার প্রধান জামাত হবে সার্কিট হাউজ ময়দানে সকাল ৭টায়। আবহাওয়া খারাপ হলে খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল ৭টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আরও দুটি জামাত হবে সকাল ৮টা ও ৯টায়। খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদে জামাত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়।
রাজশাহীর কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে হযরত শাহ মখদুম (র.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায়। বৃষ্টি হলে বিকল্পভাবে দরগাহ জামে মসজিদে সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
বরিশালের প্রধান জামাত হবে হেমায়েতউদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায়। চরমোনাই দরবার শরীফ মাঠ ও গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদেও সকাল ৮টায় বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নগরীর বিভিন্ন মসজিদেও একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়। কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে তিনটি জামাত হবে সকাল ৭টা, ৮টা ও ৯টায়। সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
রংপুরের প্রধান জামাত হবে কালেক্টরেট ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায়। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে একই সময়ে জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জেলার বিভিন্ন ঈদগাহ ও মাঠে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ময়মনসিংহ নগরীর আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে প্রধান জামাত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। একই স্থানে দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বড় মসজিদে সকাল ৮টা, দারুল উলুম নিজামিয়া ঈদগাহ মাঠে সকাল সাড়ে ৮টা এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মাঠে সকাল ৯টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ঈদ উপলক্ষে দেশজুড়ে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদ এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করেছেন।



