ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো গভীর শোকে। নরসিংদী রেলস্টেশনে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন এক মা ও তার দুই বছরের শিশুসন্তান। দুর্ঘটনার পর স্ত্রীকে কাঁধে এবং সন্তানের নিথর দেহ বুকে নিয়ে বাবার হাসপাতালের দিকে ছুটে যাওয়ার হৃদয়বিদারক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে।
জানা গেছে, দিনমজুর সুজন মিয়া ঈদের কেনাকাটার জন্য স্ত্রী সাথী বেগম, দুই বছরের ছেলে হাছেন ও পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে বুধবার (২৭ মে) নরসিংদী শহরে এসেছিলেন। কেনাকাটা শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা নরসিংদী রেলস্টেশনে পৌঁছান।
বাড়ি ফেরার জন্য রেললাইন পার হওয়ার সময় তারা দেখতে পান ঢাকাগামী আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে। অন্য যাত্রীদের মতো তারাও একটি বগির এক পাশ দিয়ে উঠে অন্য পাশ দিয়ে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় সাথী বেগমের কোলে ছিল ছোট ছেলে হাছেন।
ঠিক তখনই দ্রুতগতিতে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল আন্তঃনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেস। ট্রেনটির ধাক্কায় সাথী বেগম ও তার কোলে থাকা শিশু হাছেন ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই সুজন মিয়া আহত স্ত্রীকে কাঁধে তুলে নেন, বুকে জড়িয়ে নেন রক্তাক্ত সন্তানকে এবং অন্য হাতে ছোট মেয়ের হাত ধরে ছুটতে থাকেন নরসিংদী জেলা হাসপাতালের দিকে। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল।
এ ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই পরিবারের এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে শোক প্রকাশ করেছেন।
স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুজন মিয়া। তিনি বলেন, ‘চোখের সামনেই আমার স্ত্রী আর ছেলেকে হারালাম। ট্রেন আসতে দেখে চিৎকার করছিলাম, আটকানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছুই করতে পারিনি।’
নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির এক উপপরিদর্শক জানান, স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা মহানগর এক্সপ্রেসের বগি দিয়ে পারাপারের সময় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঈদের আনন্দঘন সময়ে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নরসিংদীসহ দেশজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। বিশেষ করে একজন অসহায় বাবার স্ত্রী ও সন্তানকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা এবং তার বেদনার্ত ছুটে চলার দৃশ্য অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।



