রাজধানীর খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে রেল লাইনে গড়ে উঠেছে কোরবানির গরুর মাংসের অস্থায়ী বাজার। বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে পাওয়া এ মাংস বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৬০০ টাকায়।
আবার কসাইরা কেউ কেউ ভালো মানের মাংস বিক্রি করছেন ৮০০ টাকায়। নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের জন্য ভরসা হয়ে উঠেছে কম দামের এই মাংসের বাজার।
শুক্রবার (২৯ মে) শুধু খিলগাঁও নয়, রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার, শিয়া মসজিদ, মালিবাগ রেলগেট, রামপুরা ব্রিজসহ বিভিন্ন মোড়ে এসব স্বল্পমূল্যের মাংসের বাজার দেখা মিলে।
কথা বলে জানা যায়, সারাদিন বাসাবাড়িতে কোরবানির গরু জবাইয়ের কাজ শেষে পাওয়া মাংস বিক্রি করছেন কসাইরা। আবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাওয়া মাংসের একটা অংশ বিক্রি করতে বাজারে এসেছে ছিন্নমূল মানুষ।
কারো হাতে ২ কেজি, আবার কারও হাতে ৫ কেজি মাংসের বাটি। কেউ প্রতি কেজি দাম বলছেন ২০০ টাকা। আবার কারো কাছে ভালো মানের মাংসের দাম নিচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকা। দরদাম করে কিনছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।
খিলগাঁও রেললাইনের বাজারে ২০ কেজি মাংস নিয়ে এসেছেন মো. সুমন ও তার তিন সঙ্গী। ৭০০ টাকা ও ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তারা। সুমনের কাছে মাংসের বাজার নিয়ে জানতে চাইলে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “এবার কোরবানি ঈদে ২০ হাজার টাকায় ৬টি গরুর কাজ করেছি। পারিশ্রমিকের পাশাপাশি প্রায় ৩৫ কেজি মাংস পেয়েছি। কিছু মাংস বাড়িতে নিয়ে যাব, ২০ কেজি বিক্রি করতে এসেছি।”
এখানে মূলত আসে কোরবানি করতে পারে না এমন মানুষরা। তারাও তো আজকের দিনে মাংস খেতে চান। তারা কম দামে কিছু মাংস কিনে নিচ্ছে। এ বাজারে ফিক্সড কোনো রেট নেই। যার কাছে যত বিক্রি করা যায়, বলে জানান তিনি।
কম দামে গরুর মাংস কিনতে পেরে সন্তুষ্ট ক্রেতারাও। হামিদ নামে এক ক্রেতা বলেন, “এখানে অনেক কম দামে মাংস পাওয়া যাচ্ছে। আমি আড়াই হাজার টাকায় ৫ কেজি কিনেছি। এমনকি বড় গরুর ভালো মানের মাংসও পাওয়া যায়।”
খিলগাঁও রেললাইনের বাজারে মাকে নিয়ে মাংস কিনতে এসেছেন এক শিক্ষার্থী। তিনি ২০০ টাকা দরে তিন কেজি ও ৫০০ টাকা ধরে এক কেজি মাংস কিনেছেন।



