রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি, বরং প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কয়েকটি নথির ছবি প্রকাশ করে তিনি এ দাবি করেন। তার ভাষ্য, সরকারি কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেনি; বাতিল করেছে প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স।
ফেসবুক পোস্টে শিশির মনির বলেন, আদ্-দ্বীনের নামে দুটি পৃথক লাইসেন্স রয়েছে। এর মধ্যে একটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য, যার লাইসেন্স নম্বর HSM 4310058। অন্যটি প্যাথলজি সেন্টার পরিচালনার জন্য, যার লাইসেন্স নম্বর HSM 4310059।
তিনি দাবি করেন, গত ৪ জুন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছিল, সেখানে HSM 4310059 নম্বর লাইসেন্সের উল্লেখ ছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সময় নিয়ে নোটিশের জবাব দেয়। সেই প্রক্রিয়া শেষে যে লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে, সেটিও একই নম্বরের, অর্থাৎ প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স।
শিশির মনির প্রশ্ন তুলে বলেন, “কোন লাইসেন্স বাতিল হয়েছে, হাসপাতাল/ক্লিনিকের, নাকি প্যাথলজি সেন্টারের? বিষয়টি কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে। এটি অবহেলা, নাকি ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত, তা জনসাধারণ বিবেচনা করবেন।”
এর আগে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছিলেন, আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। একই দিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। মৃত নবজাতকদের বয়স ছিল এক থেকে চার দিনের মধ্যে।
ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হাসপাতালের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে লাইসেন্স বাতিলের প্রকৃত পরিধি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বক্তব্যে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।



