Monday, July 27, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের পেটালেন রাকসু ও শিবির নেতারা

রাবির প্রক্টর দপ্তরে মারধর করেন রাকসু জিএস আম্মার ও এজিএস সালমান সাব্বির 

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় হুমকি পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে সভায় বসেন প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। 

সোমবার (২৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আনাস, একই বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিব, সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন সভায় উপস্থিত ছিলেন। 

পরে আনাসকে ছাত্রলীগ কর্মী বলে অভিযোগ করেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস এস এম সালমান সাব্বিরসহ রাকসুর নেতারা। এসময় রাকসু নেতারা আনাসের মোবাইলে মেসেজিং প্লাটফর্মে ছাত্রলীগের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য খুঁজে পান। পরে তাকে প্রক্টর দপ্তরের মধ্যেই জিএস আম্মার ও এজিএস সালমান সাব্বির মারধর করেন। 

এরপর বিষয়টি দুপুরেই প্রক্টর সাময়িক সমাধান করে দেন এবং আনাসসহ বাকীরা প্রক্টর দপ্তর থেকে বের হয়ে যান।

তারপরে, বিকেল ৩টার দিকে আনাস, হাসিব, মাহমুদুলসহ কয়েকজন এই ঘটনার জেরে রাকসু ভবনে যান এবং উপস্থিত রাকসু নেতাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয় এবং রাকসুর তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক পাইপের আঘাতে আহত হন। এরপর আনাসসহ অন্যরা রাকসু ভবন থেকে পরিবহন চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের সামনে আসেন। 

এরপরেই উপস্থিত হন রাকসু জিএস আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর, আহত বিএম নাজমুস সাকিব, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ, রাবি শাখা শিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব, দপ্তর সম্পাদক মানাজির আহাসান, অর্থ সম্পাদক শামীম পাটোয়ারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও শাখা শিবিরের ক্যাম্পাস মনিটরিং কো অর্ডিনেটর ফজলে রাব্বি মোহাম্মদ ফাহিম রেজা, শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম, শহীদ হবিবুর রহমান হল সংসদের ভিপি আহসানুল্যাহ ফারহান, জিএস আশিক শিকদার, নবাব আব্দুল লতীফ হল জিএস নূরুল ইসলাম শহীদ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পুর্নবিবেচনায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী রমজান আলীসহ অন্যরা। 

এসময় রাকসু জিএস আম্মার দূর থেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। গ্রন্থাগারের সামনে থেকে ওই শিক্ষার্থীরাও গালির প্রতিউত্তর দেন। একপর্যায়ে সালাহউদ্দিন আম্মার ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পরে, প্রক্টর মাহবুবুর রহমান তাদেরকে কেন্দ্রীয় পাঠাগারের সামনে থেকে পাঠকক্ষের ভেতরে নিয়ে যান। 

পরে প্রক্টরকে ধাক্কা দিয়ে রাকসু ও শিবির নেতারা পাঠকক্ষে প্রবেশ করে। সেখানে অবস্থানরত শিক্ষার্থীকে বাঁশ, লাথি, রড দিয়ে হামলা করে। তাদের হামলা ঠেকাতে পাঠাগারের অন্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসলে তাদের ওপরেও হামলা চালায় উত্তেজিত শিবির ও রাকসু নেতারা। 

সহিংসতার ঘটনা জানতে পারে প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ সদস্য ও পাঠাগারের শিক্ষার্থীরা- আহত শিক্ষার্থীকে পাঠকক্ষে রেখে শিবির ও রাকসু নেতাদের পাঠকক্ষ থেকে বের করে নিয়ে আসেন। 

এর কিছু সময় পর গুরুতর আহত মাহমুদুল হাসানকে ভেতরের একটি গেট দিয়ে নিয়ে মূল ফটক দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিনসহ কয়েকজন শিক্ষক। 

পরে অ্যাম্বুলেন্স থেকে টেনে হেঁচড়ে নামিয়ে ফাহিম রেজা ও শিবির নেতা রমজান আলী আরও এক দফা হামলা করেন। এরপরে পুলিশ এবং প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় তাকে আবার এম্বুলেন্সে করে মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। 

   

About

Popular Links

x