পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার উঁচু-নিচু পাহাড় আর ঝর্ণার কোল ঘেঁষে এখন আমড়ার মৌসুম। পাহাড়ের বাড়ির আঙিনা, বাগান জুড়ে ঝুলছে টক-মিষ্টি আমড়া। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি ফল নয়, বরং আয় ও জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাঙ্গামাটির লালচে মাটি ও আর্দ্র আবহাওয়া আমড়া চাষের জন্য উপযোগী। এখানে মূলত দেশি জাতের আমড়া বেশি উৎপাদিত হয়। গাছে খুব বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। বাড়ির পাশে, রাস্তার ধারে ও পতিত জমিতেও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে আমড়া গাছ। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে গাছে ভরে ফল আসে। কাঁচা অবস্থায় সবুজ আর পাকলে হালকা হলুদ রঙ ধারণ করে এই ফল।
পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের কাছেই আমড়া অত্যন্ত জনপ্রিয়। স্থানীয়রা কাঁচা আমড়া লবণ-মরিচ দিয়ে খেতে পছন্দ করেন। আবার পাকা আমড়া দিয়ে আচার, চাটনি, জুস ও মোরব্বাও তৈরি করা হয়।
রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার, বনরূপা বাজারসহ বিভিন্ন উপজেলার হাটে এখন আমড়ার সরব উপস্থিতি। প্রতি কেজি আমড়া ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাহাড়ি নারী বিক্রেতারা ডালা ও টুকরি মাথায় করে শহরে এনে আমড়া বিক্রি করছেন। এতে তাদের সংসারে বাড়তি আয় হচ্ছে।
পাহাড়ি আমড়া বিক্রেতা জানকি রাখাইন বলেন, “আমড়ার মৌসুমে বিক্রি ভালো হয়। সরকারি সহায়তা ও বাজার সম্প্রসারণ হলে পাহাড়ের নারীরা আরও লাভবান হবেন।”
বিক্রেতা মো. সেলিম বলেন, “স্থানীয় বাজারে আমড়ার চাহিদা বেশ ভালো। প্রতিদিনই অনেক ক্রেতা কাঁচা ও পাকা আমড়া কিনে নিয়ে যান।”
রাঙ্গামাটি কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটিতে ২৪ হেক্টর জমিতে আমড়ার চাষ হয়। এতে প্রায় ২৪০ মেট্রিক টন ফলন উৎপাদিত হয় এবং সম্ভাব্য বাজার মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা।
এ প্রসঙ্গে রাঙ্গামাটি কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘‘উন্নত জাতের চারা রোপণ ও প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহায়তা করছে কৃষি বিভাগ।’’
তিনি বলেন, ‘‘সব ধরনের ফলের ক্ষেত্রেই ভ্যালু এ্যাড করার জন্য ফ্রুট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি প্রয়োজন। রাঙ্গামাটিতে প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে উঠলে পাহাড়ের আমড়া দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব।’’
তবে ভালো ফলন হলেও বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর অনেক আমড়া নষ্ট হয়। কোল্ড স্টোরেজ ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে রাঙ্গামাটির এই ঐতিহ্যবাহী ফল পাহাড়ের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।



