Thursday, September 03, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গেন্ডারিয়ায় গোলাগুলি: মাদক ও আধিপত্যের লড়াইয়ে নেপথ্যে কারা

মঙ্গলবার সকালেও গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ মুন্সিরটেকের সরু গলিটিতে স্বাভাবিকতা ফেরেনি 

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

রবিবার রাতের গোলাগুলির দুই দিন পর মঙ্গলবার সকালেও গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ মুন্সিরটেকের সরু গলিটিতে যেন স্বাভাবিকতা ফেরেনি।

গলিটির এক প্রান্ত স্বামীবাগের দিকে, অন্য প্রান্ত গিয়ে মিশেছে গেন্ডারিয়া রেললাইনের কাছে। এতটাই সরু যে পাশাপাশি কয়েকজন মানুষ দ্রুত হেঁটে গেলেও জায়গা কম পড়ে। সেই গলির দোকানগুলোর কয়েকটি মঙ্গলবার সকালেও বন্ধ ছিল। যারা খুলেছিলেন, তারাও ক্রেতার অপেক্ষায় চুপচাপ বসে ছিলেন। 

সকাল ১০টার দিকে একটি চায়ের দোকানের সামনে বসে থাকা চার-পাঁচজন বয়স্ক মানুষ আগের রাতের ঘটনা নিয়ে কথা বলছিলেন। তাদের কথায় বারবার ফিরে আসছিল গুলির শব্দ আর আতঙ্কের মুহূর্তটি। 

তাদের একজন বলছিলেন, চা বিক্রেতা আলমগীর দোকানের ঝাঁপ নামানোর আগেই কপালে গুলিবিদ্ধ হন। আরেকজন বলছিলেন, গুলির শব্দ শুরু হওয়ার পর মানুষ যে যেদিকে পেরেছে ছুটেছে-কেউ দোকানের ঝাঁপ নামানোর সময়ও পায়নি। 

“আমগোর আলমগীররে আল্লাহ বাঁচাইছে, যে জায়গায় গুলি লাগছে তাতে সবাই ভয় পাইছিলো,বাঁচবো কিনা”-আলমগীরের মাথায় গুলি লাগার কথা বলতে গিয়ে তাদের একজন এভাবেই মন্তব্য করেন। 

স্থানীয়দের অধিকাংশই এ বিষয়ে কথা বলতে চান না, কেউ কেউ ঘটনার বিষয়ে কিছু কথা বলা শুরু করলেও খানিকসময় পরে অদৃশ্য ভয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। অতর্কিত এমন সশস্ত্র হামলায় হতবাক এলাকাবাসীর সবাই। তারা বলছেন, এমন ঘটনা ওই এলাকায় আগে কখনো দেখেননি।

রবিবার সন্ধ্যার পর বিএনপির স্থানীয় কর্মী মো. মনির হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয় ঘিরে এই হামলা চালানো হয়। তার ওই কার্যালয় ভাঙচুর করার পাশাপাশি হামলা, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া পুরো গলিজুড়ে। ভাঙচুর করা হয় আশেপাশের কয়েকটি দোকানেও। 

এসময় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, মারধর এবং গুলিবিনিময়ের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আর সেই গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হন চা বিক্রেতা আলমগীর (৩৩), হোটেল দোকানদার মো. কাদেরের বাসায় বেড়াতে আসা কিশোর সিয়াম (১৮) এবং পথচারী আশা আক্তার (২০)।

গেন্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘এ ঘটনায় অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যেই অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আশা হবে।’’ 

কি ঘটেছিলো সেদিন? 

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদক স্বামীবাগের মুন্সিরটেক এলাকা সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের তথ্য পর্যালোচনা করে ঘটনার নেপথ্য অনুসন্ধান করেছেন। 

স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী, সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকালে স্থানীয় বিএনপি নেতা মনির হোসেন ও তার অনুসারীরা অটো সজলের বাবা আলম ও চাচা রাসেলের বাসায় গিয়ে তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

পরে বিকেলে গেন্ডারিয়ার রেললাইন সংলগ্ন করাতিটোলা এলাকা থেকে রাকিব, বিল্লাল ও রিফাত নামের তিন তরুণকে ‘মাদক বিক্রির সময়’ আটক করেন মনিরের অনুসারীরা। একপর্যায়ে তাদেরকে মনিরের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। 

তিন যুবককে ধরে নিয়ে আসা প্রসঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী মো. সোহান বলেন, “অনেক বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করি। কিন্ত রবিবারের মতো ঘটনা আমার দেখা গত দুই তিন যুগে দেখিনি। এবারই প্রথম এধরনের অস্ত্রের মহড়া।’’ 

তিনি আরও বলেন, ‘‘তারা কারা সঠিক জানি না। তবে সে সময় অনেক মানুষ জড়ো হইয়া আছিল। হেরপর দেখলাম পুলিশ আইছে। পুলিশ যাওয়ার একটু পরেই দেখি এই ঘটনা।’’ 

একপর্যায়ে সেখানে মনিরের অফিসের ভিতরে নিয়ে সেই তিন যুবককে তাদেরকে কয়েক দফায় মারধর করা হয়। পরে পুলিশ ডেকে তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল মুন্সিরটেক গলির করাতিটোলা সংলগ্ন প্রবেশপথ থেকে হামলা চালায়। এসময় এলোপাথারি গুলি ছোঁড়ার পাশাপাশি মনিরের কার্যালয়ে হামলা ও আশপাশের দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। 

স্থানীয় দোকানদার ইদ্রিস মিয়া বলেন, “গুলির তীব্রতা এত বেশি ছিলো যে কে করছে, কোন দিক দিয়া করছে তার ঠিক নাই। কেউ মাল ডুকাইয়া শাটার লাগাইতে পারছে আবার কেউ দোকান খুলা রাইখাই জান বাঁচানোর জন্য সরে গেছে।”

হামলার সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। এ বিষয়ে পাশের অন্য ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বিদ্যুৎ কেউ বন্ধ করছে কিনা সঠিক মনে নেই। তবে এমনিতেই এসময়টায় কারেন্ট আসে যায়। কারেন্ট যাওয়ায় এলাকা অন্ধকার হয়ে পড়লে আতঙ্ক আরো বাড়ে।গতকাল দোকান খুলিনাই। পেট চলে না, তাই আজ দোকান খুলছি জীবনের তাগিদে।” 

অটো সজলের অনুসারীরা কার্যালয়ের সামনে আসলে সেখানে থাকা মনিরের অনুসারীদের সঙ্গে ধাওয়া শুরু হয়। তবে তারা সামাল দিতে পারেনি। পরে অফিস ভাঙচুর ও এলাকায় গোলাগুলি হওয়ার ব্যাপারে জানতে পেরে মনিরের আরও কিছু অনুসারী আশপাশ থেকে এসে তাদেরকে ধাওয়া দেয়। তখন তারা গলির মাথায় দাড়িয়ে গুলি ছোড়ে। এ সময় মনির হোসেন একটি পিস্তল দিয়ে এলোপাথারি গুলি ছুড়ে, তবে তার পিস্তলের কোন লাইসেন্স নেই বলে জানিয়েছে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ। 

এভাবে হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া স্বামীবাগ লেন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এসময় মনিরের ব্যক্তিগত অফিসে বসে থাকা থাকা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ওমর নবী বাবুকেও একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয় বলে জানায় পুলিশ। 

পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, “অটো সজলরা সব জেলখানায়। তার বাপ-চাচা বয়স্ক মানুষ। সজল মাদক ব্যবসা করে সত্য। কিন্তু মনির তার বাপ-চাচারে বাসায় গিয়ে বেদম মারছে। এরপর আবার তাদের তিনটা লোকরে পুলিশে ধরায়ে দিছে। যে কারণে ওই ক্ষোভ থেকে পরের এই হামলার ঘটনা।” 

ঘটনাস্থল থেকে ২০টি গুলির খোসা, ও একটি বুলেট উদ্ধারের কথা ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন গেন্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান। 

নেপথ্যে ‘মাদক নেটওয়ার্ক, দলীয় আধিপত্য বিস্তার’ 

পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রমতে, গেন্ডারিয়ার রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদক কারবার ও আধিপত্য নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা মনির হোসেন ও তার অনুসারীদের সঙ্গে কারাবন্দি ‘অটো সজল’-এর অনুসারীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। 

স্থানীয় বিএনপি নেতা মনির, তার অনুসারী ও অটো সজলের বিরোধ কবে থেকে জানতে চাইলে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড ও পূর্ব ইতিহাস সম্পর্কে এলাকায় বিস্তারিত খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মনির এলাকায় বেশ প্রভাবশালী ও বিত্তশালী। তার একাধিক বাড়ি ও দোকানপাট আছে। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার অনুসারীরাও বিভিন্ন জায়গায় মাদক ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে। কিন্ত রেললাইনে সংলগ্ন এলাকায় মাদক কারবারে আগে থেকেই অটো সজলের বেশ প্রভাব ছিল। পুরো সায়দাবাদ থেকে কমলাপুর পর্যন্ত নেটওয়ার্ক ও কিশোর গ্যাং ছিলো তার। সেখানে মনিরেও নিজস্ব অনুসারী তৈরি করছিলো। 

অটো সজল কারাবন্দি হওয়ার পরও এত শক্তিমত্তার উৎস কিভাবে, জানতে চাইলে গেন্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘‘গত ১৮ জুন সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অটো সজল ও তার ৮ সহযোগীকে ছয়টি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।তারা বর্তমানে জেলে রয়েছে। তারা কেউ এখন স্থানীয়ভাবে শক্ত অবস্থানে নাই।’’ 

স্থানীয়রা জানান, মনিরের বড় ভাই শাহাবুদ্দিন একসময় এলাকায় মাদক ও ফেনসিডিলের কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন। পরে সে সময়কার যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর শাহাবুদ্দিন গা-ঢাকা দেন। এরপর ২০২৪ সালের আগস্টের পর এলাকায় ফেরেন। পরে তার অনুসারীরা আবারও এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা শুরু করে।  

সম্প্রতি অটো সজল গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে বন্দী হলে এলাকায় একচ্ছত্রভাবে নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন মনির। এরই প্রেক্ষিতে তার অনুসারীদের দিয়ে সেই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে মনিরের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহও এ তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি। 

এছাড়া স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের একাংশের ভাষ্য, স্থানীয় বিএনপি নেতা মনির সাবেক কাউন্সিলর ও গেন্ডারিয়া থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মকবুল হোসেন টিপু ও অটো সজলকে রাজনীতিতে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন। তাদের ধারণা, অটো সজল ও টিপুর মধ্যে সমঝোতা হলে এলাকায় তার প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কমে যেতে পারে। 

গত বছরের ২৬ আগস্ট কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা টিপুর বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ করেন। সেখানে টিপুর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে অটো সজল মাদক ব্যবসা চালাতেন বলেও অভিযোগ করা হয়। 

মকবুল হোসেন টিপু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘প্রশাসন থেকে ‘বেনিফিট’ নেওয়ার মনির এসব করে আসছেন।’’ 

তিনি আরও বলেন, ‘‘অটোসজলও গত সরকারের আমলে আমার সাথে একাধিক মামলা খেয়েছে। তার পরিবারের লোকজন বিএনপির কর্মী এটা সত্য।” 

টিপু বলেন, ‘‘অটো সজলের অনুসারীদের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যও রয়েছে এবং রেললাইনজুড়ে তাদের মাদক কারবার ছিল এটাও সত্য। মনির এলাকায় একটু অবস্থান করতে চাইছিল। অটোসজলের বাপ আলম একটা পাগল, ওরে মাইরাই সে ভুলটা করছে।” 

এদিকে মনির হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি উদ্যোগ নিয়ে ৩ মাদক কারবারিকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। এ কারণেই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত একটি পক্ষ তার কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে পরে গুলি ছোড়ে। হামলাকারীদের মধ্যে অটো সজলের বাবা আলম ও ভাগ্নে রবিনসহ কয়েকজনকে চিনতে পেরেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। 

গুলির শব্দ শুনে ঝাঁপ নামিয়েও রক্ষা হয়নি সিয়ামের

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের চিকিৎসাধীন সিয়াম ঘটনার সময় কাদিরের চায়ের দোকানে ছিলেন। রবিবার বিকেলে স্বামীবাগে খালার বাসায় আসেন। সন্ধ্যায় অসুস্থ খালাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা ছিল তার। এর আগে দুই খালাতো ভাই রিমন ও আরমানকে নিয়ে মামার দোকানে বসেছিলেন। 

সিয়াম বলেন, “রাতে হঠাৎ অনেক মানুষ চিৎকার করতে করতে আসছিল। তখন মামা আমাদের দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করতে বললেন। আমরা দ্রুত ঝাঁপ বন্ধ করে দিই। এর মধ্যেই একটা গুলি ঝাঁপ ভেদ করে এসে আমার ডান কাঁধে লাগে।”

চা বিক্রেতা আলমগীরও ওই সময় তার নিজ দোকানে ছিলেন। তার স্বজনদের ভাষ্য, ঝাঁপ নামানোর আগেই আলমগীরের কপালে গুলি লাগে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। 

গুলিতে আহত আরেকজন আশা আক্তার। এক্স-রে পরীক্ষায় তার কোমরে একটি গুলি আটকে থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। সেটি অপসারণে তার অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার স্বামী নজরুল ইসলাম দুবাইয়ে কাজ করেন। আশা তাদের একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকেন। 

অস্ত্র হাতে মহড়া/সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সংগৃহীত

মামলা হয়নি, তদন্ত চলছে

ঘটনার দুই দিন পরও গেন্ডারিয়া থানায় কোনো লিখিত মামলা হয়নি বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করছেন ওসি মনিরুজ্জামান খান। 

তিনি বলেন, ‘‘যদি কেউ মামলা দেয়, অবশ্যই নিব, যে পক্ষই হোক না কেন। এখনো কেউ আসেনাই মামলা করতে। তারাতো এখন এলাকায়ই নাই। নাম-ঠিকানা কয়েকটা সংগ্রহ করে ফেলছি। বাংলাদেশের যেখানে থাকুক ধরে নিয়ে আসব। দু-একজন ধরা পড়লেই পুরো বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।” 

হামলার মোটিভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। এছাড়া সোমবার সকালেও সিআইডির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। একজন না গ্রেপ্তার হইলে বলতে পারব না। আমরা কাজ করছি, অভিযান চলতেছে।” 

এদিকে মাদক কারবারের অভিযোগে মনিরের অনুসারীদের হাত থেকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা অটো সজলের সেই তিন অনুসারীর কাছ থেকে ৯৬টি ইয়াবা এবং ৩০ থেকে ৩৫ প্যাকেট গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ। তাদেরকে পরবর্তীতে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি মনিরুজ্জামান খান। 

পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আশপাশের কয়েকটি পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সংঘর্ষে সক্রিয় কয়েকজনকে শনাক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্তত পাঁচ-ছয়জনকে চিহ্নিত করে তাদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। 

এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ফুটেজে কয়েকজনকে অস্ত্র হাতে এবং সংঘর্ষে সক্রিয় অবস্থায় দেখা গেছে। তাদের পরিচয় ও ঘটনার সময়কার ভূমিকা মিলিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। 

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও গোয়েন্দাদের প্রাথমিক  ধারনা করছেন হামলায় ব্যবহৃত গুলি পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রের। এসব অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান করছেন তারা। 

সার্বিক বিষয়ে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, ‘‘লুট হওয়া অস্ত্র দিয়ে গুলি করা হয়েছে কি না এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত না। অস্ত্র উদ্ধার হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। গুলাগুলির ব্যাপারটা তো আধিপত্য কেন্দ্রিক এটা নিশ্চিত। আমরা ইতিমধ্যে তদন্তে বেশ অগ্রসর হয়েছি।’’

   

About

Popular Links

x