গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া বিপন্ন প্রজাতির তিনটি রিংটেইল লেমুরের দুটিকে ভারতের গুজরাটে শীর্ষ ধনকুবের অনন্ত আম্বানির বন্য প্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণ প্রকল্প ‘বনতারা’য় শনাক্ত করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে পাচারের পর একাধিক হাত ঘুরে লেমুর দুটি সেখানে প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি করা হয়েছে বলে তদন্তে নিশ্চিত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দৈনিক আজকের পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
চুরি হওয়া বন্য প্রাণী দুটিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও শনাক্তকরণ চিহ্ন না থাকায় চরম আইনি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচ বছরের বেশি সময় সাফারি পার্কে থাকলেও লেমুরগুলোর শরীরে কোনো মাইক্রোচিপ বসানো হয়নি, ছিল না কোনো স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর বা সংরক্ষিত ডিএনএ প্রোফাইল। ফলে আম্বানির প্রকল্পে থাকা প্রাণী দুটি যে বাংলাদেশেরই, তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সিআইডির তদন্ত ও গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ রাতে সাফারি পার্কের আউটসোর্সিং নিরাপত্তাকর্মী নিপেন মাহমুদের সহায়তায় জুয়েল নামের এক চোরাকারবারি লেমুরগুলো চুরি করেন। পরবর্তীতে ভারতীয় পাচারকারীদের সঙ্গে চুক্তি করে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে দুটি লেমুর ভারতে পাঠানো হয় এবং একপর্যায়ে গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত রিলায়েন্সের ৩ হাজার ৫০০ একর জমিতে গড়ে ওঠা ‘বনতারা’ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে বিক্রি করা হয়। বনতারায় প্রকাশিত ছবির সূত্র ধরেই প্রাণীগুলোর সন্ধান পায় সিআইডি।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের আগস্টে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা চালানের সঙ্গে এ জোড়া লেমুর আটক করে সাফারি পার্কে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে দুটি শাবকের জন্ম হয়। সিআইডি জানায়, বর্তমানে চুরির ঘটনায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অবশিষ্ট একটি শাবকের ডিএনএ প্রোফাইলের মাধ্যমে পাচার হওয়া প্রাণীগুলোর রক্তের সম্পর্ক নিশ্চিত করে ফেরত আনার কূটনৈতিক প্রক্রিয়া জোরদার করা হচ্ছে।



