Monday, October 26, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গোপালগঞ্জে ৩ দিনের নৌকাবাইচ উৎসব শুরু

‘২০০ বছর ধরে স্বতঃস্ফুর্তভাবে নৌকাবাইচ হচ্ছে, এখানে কোনও আয়োজক কমিটি নেই’ 

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় উৎসব মুখোর পরিবেশে ৩ দিনব্যাপী নৌকাবাইচ উৎসব শুরু হয়েছে। 

স্থানীয়দের কাছে বিল বাঘিয়ার নৌকাবাইচ হিসেবে পরিচিত এ নৌকাবাইচ ২০০ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব। প্রতি বছরের মতো এ বছরও এ নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার মানুষের মিলন মেলা বসেছে  কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নের কালিগঞ্জে। 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর থেকে নান্দনিক এ নৌকা বাইচ বিপুল আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।  

প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যে লালিত ২০০ বছরের আকর্ষণীয় এ নৌকাবাইচে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, পিরোজপুর, বরিশাল জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের   সরেঙ্গা, ছিপ, কোষা, চিলাকাটা, জয়নগর বাচারী নৌকা অংশ নেয়। আবহমান গ্রামবাংলার অতি প্রাচীন কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও নিজস্বতা ধরে রাখতে হাজারো প্রাণের আনন্দ উচ্ছালতায় কোটালীপাড়া উপজেলার বিল বাঘিয়ার বাবুর খালে কালিগঞ্জ বাজার থেকে খেজুরবাড়ি পর্যন্ত নৌকাবাইচ ও মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

এখানে বাড়তি আকর্ষণ নৌকায় নৌকায় মেলা। হাজার হাজার মানুষ দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে নৌকাবাইচ প্রত্যক্ষ করেন। দুপুর থেকে নানা বর্ণে ও বিচিত্র সাজে সজ্জিত দৃষ্টি নন্দন এসব নৌকা তুমুল বাইচ শুরু করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে নৌকা বাইচের একের পর এক ছোপ। 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ২য় দিনেও দুপুর থেকে নৌকাবাইচ উৎসব শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে। তৃতীয় বা শেষ দিনে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর থেকে শুরু হয়ে  সন্ধ্যায় এ নৌকাবাইচ সমাপ্ত হবে। ভাঙবে মিলন মেলা। 

সাংবাদিক ও ইতিহাস গবেষক রবীন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, ‘‘নিন্ম জলাভূমি (বিল) বেষ্টিত কোটালীপাড়া ছিল তালিমপুর-তেলিহাটি পরগনার অন্তর্গত। এ অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকার প্রধান অবলম্বন ছিল নৌকা। প্রায় ২০০ বছর আগে লক্ষ্মী পূজার সময় নৌকা নিয়ে তালিমপুর-তেলিহাটির জমিদার শিবরাম চৌধুরীর বাড়িতে যেতেন এ এলাকার মানুষ। পূজা দেখে ফেরার সময় নৌকায় নৌকায় পাল্লা হতো। নৌকার মাধ্যমে চিত্তবিনোদনের চিন্তা থেকে বিলবাঘিয়ায় নৌকা বাইচের প্রচলন করেন জমিদার শিবরাম চৌধূরী। সেই থেকেই লক্ষ্মী পূজার পরের দিন থেকে এ অঞ্চলের নৌকা বাইচ উৎসব হয়ে আসছে স্বতঃস্ফুর্তভাবে। এ বাইচ কেউ আয়োজন করে না। ৩ দিনব্যাপী দেশের আর কোথাও আয়োজন ছাড়া এতবড় নৌকাবাইচ উৎসব হয় বলে আমার জানা নেই।’’ 

কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার হাওলাদার  বলেন, ‘‘ছোট থেকে এ নৌকাবাইচ দেখে আসছি। এখানে কখনোই কাউকে বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে বাইচের আয়োজন করতে হয় না। স্বতঃস্ফুর্তভাবে মাঝি-মাল্লারা নৌকা নিয়ে এসে নৌকাবাইচ উৎসব করে আসছেন। এখানে কোন আয়োজক কমিটি নেই। কোন পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয় না। তারপরও ২০০ বছর ধরে এ নৌকা বাইচ উৎসব হয়ে আসছে। এটি কোটালীপাড়ার একটি ঐতিহ্য। সব প্রতিকূলতাকে প্রতিহত করে আমরা এটিকে টিকিয়ে রাখব।’’ 

কলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিজন বিশ্বাস বলেন, ‘‘নদী মাতৃক এ অঞ্চলের ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাঘিয়া বিলের নৌকা বাইচ টিকিয়ে রাখতে হবে।’’ 

   

About

Popular Links

x