বগুড়ার ধুনটে পারিবারিক কলহের জেরে মুন্নী খাতুনকে (৩২) গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী নুরুল ইসলামকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মথুরাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসাপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
ধুনটথানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওসমান গণি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের বাসিন্দা নূরুল ইসলামের সঙ্গে প্রায় দশ বছর আগে একই গ্রামের রূপালী খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুটি সন্তান রয়েছে।
প্রতিবেশিরা জানিয়েছেন, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই রূপালী খাতুন ও নূরুল ইসলামের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো।
নিহতের বাবা মঞ্জিল শেখ জানান, নুরুল ইসলামের পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়লে রূপালী খাতুনের সঙ্গে তার কলহ হয়। এ নিয়ে মাঝে মাঝে রূপালীকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো। নির্যাতন থেকে বাঁচাতে তিনি এক বছর আগে রূপালীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে নির্যাতন করবে না শর্তে নুরুল ইসলাম তার স্ত্রী রূপালীকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়।
অভিযোগ করা হয়েছে, শুক্রবার দুপুরে নূরুল ইসলাম সন্তানদের বাড়ির বাহিরে পাঠিয়ে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে স্ত্রীকে ব্যাপক নির্যাতন করতে থাকেন। এ সময় প্রতিবেশিরা নির্যাতনের চিৎকার শুনতে পেয়ে ঘরের দরজা খোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ আসার পরও ঘরের দরজা না খোলায় পরবর্তীতে দরজা ভেঙে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে গৃহবধু রূপালী খাতুনের মৃতদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধুনট থানার এসআই ওসমান গণি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল ইসলাম তার স্ত্রীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বসরোধে হত্যা করা কথা স্বীকার করেছেন। হত্যায় জড়িত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো ও হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।



