বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার পাশাপাশি বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট ও মাকালুর একাংশ দেখা গেছে। ২৬ অক্টোবর ভোরে পঞ্চগড়ের একটি গ্রাম থেকে অল্প সময়ের জন্য পর্বত দুটি দৃশ্যমান হয়। আলোকচিত্রী ফিরোজ আল সাবাহ নিজের ক্যামেরায় এর ছবি তুলেছেন।
ফিরোজ আল সাবাহ জানান, ওই দিন সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি এভারেস্ট ও মাকালুর দেখা পান। পঞ্চগড় থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের এই পর্বতশৃঙ্গ এত স্পষ্টভাবে আগে কখনো দেখেননি বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, আট বছর আগে তার মনে প্রশ্ন জাগে, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গেলে এভারেস্ট কেন নয়। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গত ১০ দিন ধরে প্রতিদিন ভোরে বের হতেন তিনি, তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় সফল হননি। ২৬ অক্টোবরের আগের দিন থেকে বাতাসে ঠান্ডার আমেজ ও আর্দ্রতা কমে আসায় তিনি দৃশ্যমানতা বাড়ার আভাস পান। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে আবহাওয়াও অনুকূলে ছিল বলে জানান তিনি।
সেদিন ভোর ৪টার দিকে সঙ্গী তুষারকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বের হন তিনি। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই পূর্বাকাশে রঙের খেলা দেখা যায়। সূর্যোদয়ের আগে চাঁদের আলোয় কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হয়, পরে সূর্যের প্রথম আলোয় তার চূড়া সোনালি রং ধারণ করে। এর কয়েক মিনিট পর দিগন্তে ধীরে ধীরে এভারেস্ট ও মাকালুর অবয়ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আলোকচিত্রী জানান, এই অভিজ্ঞতার গল্প তিনি ২০২২ সালেও লিখেছিলেন। এবার ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন। তবে নিজের তোলা ছবির সত্যতা নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী বলে জানান।



