গাজীপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে জেলার নাওজোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন শ্রমিকরা। এতে জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোড় মোড় পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলায় বিজিবি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা বাড়িয়েছে প্রশাসন।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। এ সময় মহাসড়কের পাশে জমে থাকা ময়লা ও বর্জ্য সড়কে এনে আগুন ধরিয়ে দেন তারা। অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচলে বাধা দেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য, ছবি ও ভিডিও নিতে চাইলে তারা বাধা দেন।
শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। নতুন করে আরও এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করায় জেলায় মোট ১১ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। অন্যদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আরিফ হোসাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, শ্রমিক বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে আগে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় তা বাড়িয়ে ১১ প্লাটুন করা হয়েছে। আগে ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করলেও এখন ২৫ জনের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, “আন্দোলনের নামে যাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিজিবি সদস্যরা ইতোমধ্যে মাঠে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছেন।”
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টার কিছু আগে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় কয়েকজন শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়াই শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেন। মহাসড়কের প্রতিটি পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।
এ সময় পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি ও একটি কারখানার গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দফা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আন্দোলনের কারণে কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।



