দেশে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ব্যাপক প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ডায়াবেটিস এখন আর শুধু নীরব ঘাতক রোগ নয়, দেশের অধিকাংশ মানুষের জন্যই এটি একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রবিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘ডায়াবেটিসের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও দ্রুত পদক্ষেপ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি এই বৈঠকের আয়োজন করে এবং এর প্রচার সহযোগী ছিল প্রথম আলো।
ডায়াবেটিসের ভয়াবহতা ও শারীরিক জটিলতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই রোগের কারণে কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিসের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ যুক্ত হলে যেকোনো সময় স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব মারাত্মক জটিলতার কারণে বহু রোগীকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। চিকিৎসকরা তাকে নিজেও ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
তবে সঠিক জীবনযাপন ও সচেতনতার মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চললে এবং ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়ালে রোগটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। জটিলতা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ রোগ প্রতিরোধে কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দেশে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিশেষায়িত চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির পক্ষ থেকে একটি ডেডিকেটেড ‘এন্ডোক্রাইন ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে ডায়াবেটিসের পাশাপাশি নারীদের স্তন ক্যানসার, জরায়ুর ক্যানসার, অন্ত্রের ক্যানসার, নাক-কান-গলার ক্যানসার ও মস্তিষ্কের ক্যানসারের মতো অন্যান্য অসংক্রামক রোগের ভয়াবহতার কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বহু রোগী অনেক দেরীতে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসা নিতে আসেন, যার ফলে তাদের অনেকেই প্রয়োজনীয় ব্যয়বহুল চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ হন। এই ধরনের মারাত্মক রোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও বেশি সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।



