ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কলেজপাড়ার একটি এতিমখানায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় মাদ্রাসার অন্তত ৩১ জন শিশু আহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দু'জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা শহরের কলেজপাড়ার মদিনাতুত তাহফিজ অ্যাকাডেমি ও এতিমখানায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ হামলায় আহত শিশুদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাদেরকে প্রাথমিক দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মদিনাতুত তাহফিজ অ্যাকাডেমি ও এতিমখানার পরিচালক হাফেজ মো. ইমরান জানান, এতিমখানার পাশের একটি খালি জায়গায় ক্রিকেট খেলছিল শিশুরা। এক পর্যায়ে খেলার বল স্থানীয় এক ছেলের গায়ে লাগে। পরবর্তীতে এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। মাগরিবের নামাজের আগে শিশুরা মাঠ থেকে ফিরে ওজু করে নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় নারী-পুরুষরা দলবেঁধে এসে এতিমখানায় হামলা চালায়। শিশুদের পিটিয়ে আহত করা হয় এবং তাদের খাবারসহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
আহতরা শিশুরা হলো- সালমান ফারসি (৯), নাদিম (১০), ওসমান (১০), সামাউন (১০), আব্দুল্লাহ (১৩), জাকারিয়া (৯), ইব্রাহিম (১৫), সাইদুল ইসলাম (১১), ফরহাদ (৯), মুজাম্মেল (১৪), জাহিদ (১৩), জুনায়েদ (১৩), ইয়ামিন (৯), ইসমাইল (১১), আমির হামজা (১২), ওমর ফারুক (১০), আসাদ উল্লাহ (১২), রিফাত (১৩), ওয়াসিম (১২), সিয়াম (১৩), ফজলে রাব্বী (১৪), সালমান (১৭), তোফাজ্জল (১৩), রেদুয়ান (১০), মোবারক (১৪), সালমান ফারসি (১৬), আকিব (৮), তানভীর (১৪), সিয়াম (১৪), আশরাফুল (১০) ও রাকিব (১০)।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি এমরানুল ইসলাম বলেন, “হামলার খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে এসেছি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শিশুদেরকে মাদ্রাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ফয়সাল (৩৫) ও জাহিদুল ইসলাম (৩২) নামের দুই জনকে আটক করা হয়েছে। পরে রাতে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।”



