Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাংলাদেশে কোভিড পরীক্ষা কেন এখনও ব্যয়বহুল?

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, করোনাভাইরাসের সামান্যতম লক্ষণ দেখামাত্রই যেন সবাই নমুনা পরীক্ষা করতে পারেন সেজন্য আবারও নমুনা পরীক্ষার খরচ কমানোর সময় এসেছে

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২২, ০৫:৫৪ পিএম

চলমান কোভিড মহামারিতে নমুনা পরীক্ষা দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে দেশে মহামারি শুরুর দুই বছর পেরোতে চললেও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা যেন এখনও বিলাসিতার আরেক নাম।

বর্তমানে বেসরকারি হাসপাতাল এবং পরীক্ষাগারগুলোতে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের খরচ হয় ১৫ হাজার টাকা (জনপ্রতি ৩ হাজার)। অন্যদিকে, সরকারি হাসপাতাল ও পরীক্ষাগারগুলোতে একই পরীক্ষা করতে খরচ হয় মাত্র ১০০ টাকা।

মহামারির শুরুর দিকে অবশ্য বেসরকারি হাসপাতাল এবং পরীক্ষাগারগুলোতে নমুনা পরীক্ষা আরও বেশি খরুচে ছিল। তখন প্রতিজনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ব্যয় হতো সাড়ে তিন হাজার টাকা। যদিও ২০২০ সালের শেষদিকে সরকার তা কমিয়ে আনে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় এখনও বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা যথেষ্ট ব্যয়বহুল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাসের সামান্যতম লক্ষণ দেখামাত্রই যেন সবাই নমুনা পরীক্ষা করতে পারেন সেজন্য আবারও নমুনা পরীক্ষার খরচ কমানোর সময় এসেছে। কারণ মহামারির আরেকটি ঢেউ ঠেকানোর অন্যতম পূর্বশর্ত হলো প্রথম দিকেই করোনাভাইরাস শনাক্ত করা।

নেপালভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হিমালয়ান টাইমসের তথ্যানুযায়ী, দেশটির বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে ১৫০০ রুপি (১,৭০০ টাকা) এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৮০০ রুপিতে (৫৭০ টাকা) নমুনা পরীক্ষা করা যায়। যা আগে যথাক্রমে ২০০০ রুপি (১,৪২৫ টাকা) ও ১০০০ রুপি (৭১০ টাকা) ছিল। এমনকি, যাদের উপসর্গ দেখা যাবে তারা বিনামূল্যে সরকারি সুবিধায় নমুনা পরীক্ষা করাতে পারবেন।

শ্রীলঙ্কান সংবাদমাধ্যম জানায়, সেখানে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার খরচ ৫ হাজার রুপি (প্রায় ২,১২৫ টাকা)। আর পাকিস্তানের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিজনের আরটি-পিসিআর পরীক্ষার জন্য সাড়ে ৬ হাজার পাকিস্তানি রুপি (৩,১৭০ টাকা) দরকার হয়।

ভুটানে নাগরিকরা বিনামূল্যে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করতে পারে। তবে যারা দেশের বাইরে ভ্রমণ করতে চান তাদের অবশ্যই ৩ হাজার ভুটানি গুলট্রুম (৩,৪৫৮ টাকা) খরচ করে নমুনা পরীক্ষার করতে হয়।

সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার জন্য ৫০০-১০০০ রুপি (৫৭০-১১৪০ টাকা ) প্রয়োজন হয়। এছাড়া, কেন্দ্রীয় সরকার নমুনা পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট খরচ নির্ধারণ করেনি।

২০২০ সালের ২৯ এপ্রিল সরকার বাংলাদেশে কোভিড শনাক্ত করতে তিনটি বেসরকারি হাসপাতালকে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করার অনুমতি দেয়। তখন কিটের দাম তিন হাজার টাকা থাকায় নমুনা পরীক্ষা করতে সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচ হতো। অন্যদিকে, ঘরে বসে নমুনা পরীক্ষায় ব্যয় হতো সাড়ে চার হাজার টাকা।

ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর সরকার বেসরকারি পরীক্ষাগারে নমুন পরীক্ষার খরচ কমিয়ে তিন হাজার টাকায় নিয়ে আসে। ঘরে বসে নমুনা সংগ্রহের জন্য ল্যাবগুলো তখন তিন হাজার ৭০০ টাকা করে নিতে শুরু করে।

এছাড়া, আগে অভিবাসী কর্মীদের নমুনা পরীক্ষার জন্য তিন হাজার টাকা প্রয়োজন হলেও ২০২১ সালের ১১ মে থেকে আড়াই হাজার টাকাতেই তারা নমুনা পরীক্ষা করতে পারেন।

ইনস্টিটিউট অফ এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা মুশতাক হুসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, বিশ্বব্যাপী টেস্ট কিট এবং মেশিনের দাম কমে গিয়েছে। তাই সরকারি হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে সরকারের উচিত নমুনা পরীক্ষার খরচ আরও কমানো।

তিনি বলেন, আমি বুঝতে পারছি না এখনও কেন নমুনা পরীক্ষার খরচ কমানো হচ্ছে না। 

যদিও বর্তমানে নমুনা পরীক্ষার খরচ কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (এমআইএস) ডা. মিজানুর রহমানের ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, বেসরকারি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষার খরচ পরিবর্তনের জন্য এখনও কোনো আদেশ আসেনি। এর বেশি কিছু মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মী নন্দ লাল ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, সেখানে স্ট্যান্ডার্ড আরটি-পিসিআর পরীক্ষার জন্য তিন হাজার টাকা, ভ্রমণকারীদের জন্য আড়াই হাজার এবং র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার জন্য ৭০০ টাকার প্রয়োজন হয়।

তিনি আরও জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যেই তাদের প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

About

Popular Links