রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে আগুনে পুড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চ অ্যাডভেঞ্চার-৯ মার্চের প্রথম দিকে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিলেন লঞ্চটির কর্মীরাও।
রবিবার (২৭ মার্চ) দুপুর একটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সাত ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে লঞ্চটিতে লাগা আগুন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক (মিডিয়া সেল) মো. শাহজাহান শিকদার জানান, সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে এ্যাডভেঞ্চার-৯ নামে লঞ্চটিতে আগুন লাগে এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে লঞ্চটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ছিল না বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ওহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “অগ্নিকাণ্ড সাধারণত বৈদ্যুতিক কেবল, চুলা, সিগারেট ও ইঞ্জিনের কেবলস বিভিন্ন কারণে লাগতে পারে। তবে কী কারণে লেগেছে, সেটি তদন্ত করে দেখা হবে।”
লঞ্চটির ব্যবস্থাপক সোহেল রানার জানিয়েছেন, লঞ্চটিতে কী কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা এখনো স্পষ্ট নোয়। এটি নাশকতামূলকও হতে পারে।
আরও পড়ুন- সদরঘাটে ‘অ্যাডভেঞ্চার-৯’ লঞ্চে আগুন নিয়ন্ত্রণে
তিনি প্রথম আলোকে বলেন, “চলতি মাসের প্রথম দিকে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন লঞ্চটিতে মহড়া দিয়েছিলেন। সেখানে লঞ্চের কর্মচারীরা প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। কী কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, সেটি জানার চেষ্টা করছেন। কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সেটা খোঁজখবর নিয়ে জানা যাবে।”
এদিকে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রবিবার চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদরদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার।
তিনি বলেন, “ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের উপ-পরিচালক নুর হাসান আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।”
কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং কমপ্লেক্সের সহকারী ইকবাল বাহার বুলবুল এবং অপর দুই সদস্য হলেন- সদরঘাট ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু সায়েম মাসুম ও গুদাম পরিদর্শক দুলাল আচার্য।



