Thursday, June 13, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ কতদূর

শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল বলেছেন, তিনি খুবই আশাবাদী যে মামলাটি প্রত্যাহার করা হবে। কারণ, তাকে যেদিন গ্রেপ্তার করা হয়, সেদিন এসপি এবং প্রধান শিক্ষক তাকে বলেছিলেন, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য মামলাটি করতে হচ্ছে

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২২, ০১:২৯ পিএম

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ক্লাস নিচ্ছিলেন শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে প্রাসঙ্গিকভাবে ইসলাম ধর্ম বিষয়েও কথা বলেন।

কয়েকজন শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় তার বক্তব্য রেকর্ড করে। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে অসন্তোষের জেরে স্কুল ছুটির পর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত আবেদন দেয় শিক্ষার্থীরা।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের অসন্তোষের জেরে স্কুল  ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসে। তবে শিক্ষার্থীদের একাংশ বিষয়টি সমঝোতার সমাধান না মেনে ২২ মার্চ ক্লাস বর্জন করে ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে।

খবর পেয়ে মুন্সিগঞ্জ থানা ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়। এরপর হৃদয় চন্দ্রকে তার বাসা থেকে আটক করা হয়। ওইদিন রাতেই বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আসাদ বাদী হয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় হৃদয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের ঘটনা জানাজানির পর দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ছড়িয়ে দেওয়া অডিও রেকর্ডে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলার মতো কিছু পাওয়া যায়নি। তাই তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি ওঠে শিক্ষক, মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন মহল থেকে।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, হৃদয় মণ্ডলকে “ফাঁসানোর জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করেছে” একটি মহল। তবে সেই মামলা প্রত্যাহারের কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি।

অবশ্য হৃদয় মণ্ডল বলেছেন, “আমি খুবই আশাবাদী যে মামলাটি প্রত্যাহার করা হবে। কারণ, আমাকে যেদিন গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়, সেদিন এসপি এবং প্রধান শিক্ষক আমাকে বলেছিলেন, স্যার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য মামলাটি করতে হচ্ছে, পরে আমরা মামলা প্রত্যাহার করে নেবো। আবার মামলার বাদী আসাদ মিয়াঁও আমাকে বলেছেন, তিনি মামলার বিষয়ে কিছু জানেন না। প্রধান শিক্ষক তাকে স্বাক্ষর করতে বলেছেন, তিনি তাই করেছেন। ফলে আসাদও কোনো আপত্তি করবে বলে মনে হয় না।”

মুন্সীগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমর কুমার ঘোষ মনে করেন, “পরিস্থিতি এখন এতটাই ঘোলাটে যে, মামলা প্রত্যাহার না করলে উল্টে প্রধান শিক্ষক ফেঁসে যেতে পারেন। এই পরিস্থিতির জন্য এখন তো তাকেই অনেকে অভিযুক্ত করছেন।” তাই তার আশা- দ্রুতই হয়ত মামলাটি প্রত্যাহার হবে।

তবে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক মনে করেন শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল এখন এলাকায় ফিরলেও কোনো ধরনের ঝামেলা হবে না। তিনি বলেন, “তার পরিবারের সদস্যরা তো এখনও এলাকাতেই আছেন। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তিনিও এলাকায় এলে কোনো সমস্যা হবে না। আমরা তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তবে তিনি স্কুলে কবে যোগ দেবেন সে ব্যাপারে তো আমরা কিছু বলতে পারি না।”

এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আহম্মদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলছেন।

এর আগে তিনি দাবি করেছেন, আসাদকে মামলার বাদী হতে কে বলেছে তা তিনি জানেন না। স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক, অভিভাবক প্রতিনিধি ও স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করেই সব করা হয়েছে বলে দাবি তার। তবে আসাদ সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রধান শিক্ষক তাকে মামলার এজাহারে স্বাক্ষর করতে বলেছেন।


About

Popular Links