Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সিলেটে বিয়ের ৫ মাসের মাথায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে মৃত্যু

সিলেটের জালালাবাদ থানার মইয়ারচরে বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে নাজমিন বেগম (২০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে

আপডেট : ৩১ মে ২০২২, ০৪:৫০ পিএম

সিলেটের জালালাবাদ থানার মইয়ারচরে বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে নাজমিন বেগম (২০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের জন্য স্বামী নাঈমুদ্দিন স্ত্রী নাজমিন বেগমকে তার ঘরে বন্দি রেখে মা-বাবা, ভাই-বোনকে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করে।

সোমবার (৩১ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে স্বামীর পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। নিহত নাজমিন জালালাবাদ ইউনিয়নের রায়েরগাওয়ের আব্দুস সাত্তারের মেয়ে।

নাজমিন বেগমের বড় ভাই মিজান উদ্দিন জানান, ১৩ জানুয়ারি মইয়ারচর গ্রামে সাইফুদ্দিনের ছেলে নাঈমুদ্দিনের সঙ্গে তার বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নানা অজুহাতে তাকে নির্যাতন করে আসছিল স্বামীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। টানা নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়লে ঈদের সময় বাবার বাড়ি চলে যান নাজমিন। এরপর তিনি আর তার স্বামীর বাড়ি ফিরেননি।

মিজান উদ্দিনের দাবি, যৌতুকের ১ লাখ টাকার জন্য তার বোনকে বারবার চাপ দিচ্ছিল নাঈমুদ্দিন ও তার বাবা-মা। সোমবার নাঈমুদ্দিনের বাবা-মা-খালাসহ সবাই মিলে বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলে নাজমিনকে নিয়ে যেতে বলেন। এরপর নাজমিনের বাবা-মা-ভাই মিলে তার স্বামীর বাড়ি যান।

তিনি দাবি করেন, তার বাবা-মা এবং তাকে বসিয়ে রেখে নাজমিনকে অন্য রুমে ডেকে নিয়ে যায় নাঈমুদ্দিন। এরপর দরজা লাগিয়ে তাকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। তারা চিৎকার শুনে নাজমিনের বাবা-মা ওই রুমে যেতে চাইলে তাদেরকে একটি রুমে আটকে রাখা হয়। এরপর নাজমিনকে তার স্বামীর ভাই ফরহাদ উদ্দিন এবং নাজিম উদ্দিন ও শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে শোরগোল শুরু হলে দরজা খুলে দেয় নাজমিনের স্বামী। তখন গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় নাজমিনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন তারা।

এরপর নাজনিমকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় নাঈমুদ্দিনের খালা রুবি বেগম তাদের সঙ্গে ছিলেন। পরে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) মামুন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এক মহিলা পুলিশের হেফাজতে আছেন। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে, পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হবে।”

   

About

Popular Links

x