নদী একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। বাংলাদেশে নদীকে ঘিরে বিভিন্ন ব্যবসা ও পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠায় নদী বিভিন্নভাবে দূষিত হয়ে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। নদীকে রক্ষা না করতে পারলে নদীমাতৃক এই দেশকে রক্ষা করা যাবে না। আর রাজধানী ঢাকাকে বাঁচাতে হলে বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে হবে।
নদীদূষণ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে “নদী দূষণের স্বাস্থ্যগত প্রভাব” শীর্ষক নদীকথনে সোমবার (২৫ জুলাই) এসব কথা বলেন বক্তারা।
ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম -এর দূষণবিরোধী অ্যাডভোকেসি প্রকল্পের আয়োজনে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী বসিলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন উন্মুক্ত স্থানে এ নদীকথন অনুষ্ঠিত হয়।
ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিলের সঞ্চালনায় এতে জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অফিসের প্রাক্তন পরিচালক ডা. আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জনস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক হাসনাত এম আলমগীর, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, মন্দিরা গুহ নিয়োগী, প্রকল্প ব্যবস্থাপক, পলিসি এন্ড ফুড সিস্টেম এট গ্লোবাল এলাইন্স ফর ইমপ্রুভড নিওট্রিশন, শাহীনুর আক্তার, সার্র্ভিস প্রমোটর, নারী মৈত্রী, মাইনউদ্দীন আহম্মেদ, চিফ অব পার্টি, কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনাল, নদীপাড়ের কম্যুনিটির প্রতিনিধি মোহম্মদ মানিক হোসেন অংশ নেন।
ডা. আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “নদীর পানি দূষণ হয় কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক ও রাসায়নিক পদার্থ পানিতে মিশে। এই দূষিত পানি পান করায় মানুষের মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে প্রজননতন্ত্র পর্যন্ত ক্ষতি হয়। সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয় কিডনী এবং যকৃৎ।”
নদী দূষণে স্বাস্থ্যগত প্রভাব প্রসঙ্গে ডা. আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “শিশুদের হাঁপনী, হৃদপিন্ড, শরিরীক প্রতিবন্ধকতা এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগ হয়। তাই কোন্ সময় কি পরিমাণ ও কোন খাত থেকে এই রাসায়নিক এবং কীটনাশক পানিতে নির্গত হয়, তা জেনে নদী দূষণ রোধে পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।”
নদীদূষণের স্বাস্থ্যগত প্রভাব প্রসঙ্গে মন্দিরা গুহ নিয়োগী বলেন, “পানি দূষিত হওয়ার কারণে খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা শিশুদের শারিরীক প্রতিবন্ধকতা ও অপুষ্টির সমস্যা তৈরী করে। তাই নদীদূষণ রোধে জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরী।”
নদীকথনে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ -এর সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, “একটা দেশের সম্পদ হলো নদী। এর সাথে মানুষের জীবনযাত্রা অনেক দিক থেকে সম্পর্কিত। তবে এই নদী বিভিন্নভাবে দূষিত হয়ে স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নদীকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে যেমন রক্ষা করা হবে, তেমনি আমাদের স্বাস্থ্যগত সমস্যারও সসমাধান করা সম্ভব হবে। আমাদের নদী রক্ষা না করতে পারলে নদীমাতৃক দেশকে রক্ষা করা যাবে না। আর আমাদের দেশের প্রাণকেন্দ্র ঢাকাকে বাঁচাতে হলে বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে হবে।”
অধ্যাপক হাসনাত এম আলমগীর বলেন, “নদী দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের প্রভাব বিষয়ে বিভিন্ন সেক্টরের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে গবেষণা করতে হবে এবং গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল নদী দুষণ বিরোধীনীতি প্রণয়ন ও সংস্কারের জন্য এ্যাডভোকেসির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে হবে।”
নদীকথনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, যদিও এখন নদীর পানি পরিস্কার কিন্ত দূষিত। এই দূষিত পানি পান করায় অনেক ধরনের পানিবাহিত রোগ হচ্ছে এবং শারিরীক অসুস্থতা দেখা দিচ্ছে। নদীকে বাঁচানোর আন্দোলনে সকলে একসাথে কাজ করার জন্য অংশগ্রহণকারীরা অভিমত ব্যক্ত করেন।



