Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পুলিশে ফোন দিয়ে নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকালো কিশোরী

ওই কিশোরীর পড়ালেখার দায়িত্ব নিয়েছেন ফরিদপুরের সালথা থানার ওসি

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২২, ১১:৫০ পিএম

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সাহসী এক কিশোরী পুলিশে ফোন দিয়ে নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকিয়েছে। রবিবার (২০ নভেম্বর) উপজেলার গট্টি ইউনিয়নে এ ঘটনাটি ঘটে । 

দরিদ্র কৃষক পরিবারের চার ভাইবোনের মধ্যে বড় ওই কিশোরী নবম শ্রেণির ছাত্রী। সোমবার তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল ।  

ওই কিশোরী বলেন, “আমার লেখাপড়া করার খুব ইচ্ছা। আমি এ অল্প বয়সে বিয়ে করতে চাই না। কিন্তু আমার পরিবার আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে ঠিক করে ফেলেন। বিষয়টি আমি নিজে ওসি স্যারকে ফোনে জানালে তিনি আমার বিয়ে ঠেকায়।” 

তার বাবা বলেন, “আমি একজন দরিদ্র কৃষক। সংসারে অভাব। মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানো আমার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। এদিকে ছেলেপক্ষ দুই তিন আগে তাকে (আছিয়া) দেখে পছন্দ করে। তারা দ্রুত বিয়েটা সেরে ফেলার জন্য চাপ দেন। সংসারের অভাব অনটনের কথা ভেবে আমি এ বিয়েতে রাজি হয়ে যাই।”

তিনি বলেন, “রবিবার সকালে সালথা থানার ওসি আমাদেরকে থানায় ডেকে নিয়ে বিয়ে বন্ধ করতে বলেন। পরে মেয়ের বয়স ১৮ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার মুচলেকা নেন আমার কাছ থেকে। দুপুরে ওসি আমাদের বাড়িতে এসে আমার মেয়ের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিবেন বলে জানান।” 

এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শেখ সাদিক বলেন, “রবিবার সকালে ওই কিশোরী আমাকে ফোন দিয়ে বলে সে লেখাপড়া করতে চায়। কিন্তু বাবা-মা তাকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছে। এ খবর শুনে প্রথমে এক একজন এসআইকে (উপ-পরিদর্শক) তার বাড়িতে পাঠাই। এরপর তার পরিবারকে থানায় ডেকে বাল্য বিবাহের কুফল সম্পর্কে ধারণা দিই এবং ওই কিশোরীকে লেখাপড়ার সুযোগ দিতে তার পরিবারকে অনুরোধ করি।”

ওসি মো. শেখ সাদিক বলেন, “এখন থেকে তারর সমস্ত লেখাপড়ার খরচের আমি গ্রহণ করবো। আমি যখন এ থানা থেকে বদলি হয়ে চলে যাবো তখন আমার পরিবর্তে যে কর্মকর্তা আসবেন তাকেও এ বিষয়টি বলবো। আমি নিজেও সব সময় ওর খোঁজখবর রাখবো।”  

About

Popular Links