Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গণিত ও ইংরেজিতে আমাদের এই দুর্দশা কেন

সাধারণ শিক্ষার্থীদের চেয়ে সবক্ষেত্রেই পিছিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। শ্রেণিভেদে যোগ্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে গ্রামের শিক্ষার্থীদের তুলনায় এগিয়ে শহরের ছাত্ররা

আপডেট : ০৬ মে ২০২৩, ১০:১১ এএম

চাকরি, ব্যবসা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য গণিত ও ইংরেজিতে দক্ষতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এই দুই বিষয়ে খুবই দুর্বল।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।

দক্ষ শিক্ষকের অভাবকে এই দুর্বলতার পেছনে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শিক্ষাবিদরা।

বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান বলছে, দক্ষতার অর্জনের দিক দিয়ে প্রায় সব বিষয়ে পিছিয়ে আছে সিলেট বিভাগ। আর প্রাতিষ্ঠানিক অর্জন বিবেচনায় ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে মেয়েরা।

অন্যদিকে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের চেয়ে সবক্ষেত্রেই পিছিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। শ্রেণিভেদে যোগ্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে গ্রামের শিক্ষার্থীদের চেয়ে এগিয়ে শহরের ছাত্ররা।

মাউশির পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন শাখার প্রস্তুত করা দুটি প্রতিবেদনের শিরোনাম যথাক্রমে- “ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অব সেকেন্ডারি স্টুডেন্টস (ন্যাস)-২০১৯” ও “লার্নি অ্যাসেসমেন্ট অব সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশন্স (লাসি)-২০১৭”।

দেশব্যাপী ষষ্ঠ শ্রেণির ২৮,১৯৪ জন, অষ্টম শ্রেণির ২৭,৭৩৭ জন এবং দশম শ্রেণির ২৭,২৮৪ জন শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ চালিয়ে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। তথ্য সংগ্রহ শুরু হয় কোভিড মহামারি শুরুর আগে। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি, বাড়ির কাজে ব্যয় করা সময়, বাবা-মায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার মতো বিষয়গুলোও এই প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় বিবেচনায় আনা হয়।

প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাউশি সচিব সোলেমান খান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে।

পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক আমির হোসেন বলেন, “নম্বরের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের শিক্ষণ ও দক্ষতার পরিমাপ করা হয়েছে ব্যান্ড স্কোর-৬ এর ভিত্তিতে।”

এক্ষেত্রে ৬ হলো সর্বাধিক (সেরা) এবং ২ হলো পিছিয়ে পড়াদের ব্যান্ড স্কোর।

প্রতিবেদন বলছে, ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৫.১% শিক্ষণ ও যোগ্যতায় ভালো করেছে। উদাহরণস্বরূপ- তারা গণিতে ৬ ব্যান্ড স্কোর করেছে। সপ্তম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা যথাক্রমে ১৪.৫% ও ২৮.৪% ভালো ব্যান্ড স্কোর তুলতে সক্ষম হয়েছে।

বিভাগীয় পরিসংখ্যান বলছে, রাজশাহী বিভাগের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা গাণিতিক দক্ষতায় এগিয়ে। দ্বিতীয় অবস্থানে খুলনা আর সবার শেষে আছে সিলেট।

একই বিষয়ে অষ্টম শ্রেণিতেও এগিয়ে রাজশাহী আর দ্বিতীয় অবস্থানে বরিশাল। গাণিতিক দক্ষতায় খুলনার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এগিয়ে, দ্বিতীয়তে আছে রাজশাহী। আর আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, দুই শ্রেণিতেই সিলেটের শিক্ষার্থীরা সবার চেয়ে পিছিয়ে।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, দশম শ্রেণিতে গাণিতিক দক্ষতার ভিত্তিতে এগিয়ে মেয়েরা। তবে ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণিতে এগিয়ে ছেলেরা।

ইংরেজির মূল্যায়ন

ইংরেজির ক্ষেত্রে ষষ্ঠ শ্রেণির মাত্র ৯.৩% শিক্ষার্থী ভালো ব্যান্ড স্কোর করতে পেরেছে। আর অষ্টম ও দশমে এ অনুপাত যথাক্রমে ২৬.৪% ও ৪০.৪%।

উল্লেখ্য, ষষ্ঠ শ্রেণির ২৯.১% শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন ব্যান্ড স্কোর ২ পেয়েছে ইংরেজিতে। এই বিষয়টিতেও ষষ্ঠ শ্রেণিতে এগিয়ে রাজশাহীর শিক্ষার্থীরা আর পিছিয়ে সিলেট বিভাগ।

একই চিত্র দেখা গেছে অষ্টম শ্রেণিতে। তবে দশমে এসে চিত্রপটে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ঢাকা বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ইংরেজিতে সবচেয়ে দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। এরপরে আছে রাজশাহী আর সবার শেষে ময়মনসিংহ।

তবে বিষয়টি যখন বাংলা, তখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক। ষষ্ঠ শ্রেণির ২৫.৮% শিক্ষার্থী এই বিষয়ে ৬-এর মধ্যে ভালো স্কোর করেছে। আর অষ্টম ও দশমে এই অনুপাত যথাক্রমে ৪৭.৭% এবং ৬৪.৩%।

আর ষষ্ঠ, অষ্টম ও দশম শ্রেণির যথাক্রমে ৬.৬%, ১.৫% এবং ০.৪% শিক্ষার্থী এই বিষয়ে সর্বনিম্ম ব্যান্ড স্কোর ২ পেয়েছে।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মনে করেন, ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি নেই এমন শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট বিষয় ভালো করে পড়াতে পারবেন না এবং তাদের দ্বারা শিক্ষার ভালো ফলাফলও আশা করা যায় না।

“কেবল গণিত আর ইংরেজিই নয় সব বিষয়েই একই কথা প্রযোজ্য।”

তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, সবকিছুই খুব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। তাই মানসম্পন্ন শিক্ষার ক্ষেত্রে দ্রুতই যুগপোযোগী পদক্ষেপ না নিলে এই দৌড়ে পিছিয়ে পড়তে হবে।

About

Popular Links