প্রভাবশালী মহলের অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য আর শিল্প দূষণে আক্রান্ত সুন্দরবনকে রক্ষায় সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশবাদী কয়েকটি সংগঠন।
মঙ্গলবার (২১ মার্চ) সকালে আন্তর্জাতিক বন দিবস উপলক্ষে সুন্দরবনের ঢাংমারিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার এবং ঢাংমারি ডলফিন সংরক্ষণ দলের আয়োজনে এক মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়।
সংগঠনগুলো বলছে, বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার, নির্বিচারে গাছ কাটা, পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ড, বন্যপ্রাণী হত্যা ও প্লাস্টিক দূষণে বিপর্যস্ত সুন্দরবন। পশুর নদীতে কলকারখানার বর্জ্য ও জাহাজি বর্জ্য ফেলা, কয়লা ও তেলবাহী জাহাজডুবির মাধ্যমেও সুন্দরবনের প্রাণবৈচিত্র হুমকিতে রয়েছে। বাংলাদেশের ফুসফুস সুন্দরবন রক্ষায় সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পুরো সুন্দরবন ও সুন্দরবনসংলগ্ন নদ-নদী প্লাস্টিকে সয়লাব হয়ে গেছে। গবেষণায় সুন্দরবনের মাছে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা পাওয়া গেছে। গত ২০ বছরে ২৪ বার অগ্নিকাণ্ডে ৭১ একর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়েছে। বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহল ব্যবসার প্রয়োজনে এসব অগ্নিকাণ্ড ঘটাচ্ছে।
সুন্দরবন রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি বন রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরগুলো যদি দায়িত্ব পালনে সততা-নিষ্ঠা-দায়িত্বশীলতার পরিচয় না দেন তাহলে অচিরেই সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় নেতা পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মো. নূর আলম শেখ।
এ সময় বক্তব্য দেন বাপা নেতা ঢাংমারি ডলফিন সংরক্ষণ দলের টিম লিডার ইস্রাফিল বয়াতি, বাপা নেতা শেখ রাসেল, বাপা নেতা হাছিব সরদার, বনজীবি ষ্টিফেন হালদার, বনজীবি বেল্লাল বেপারী, সাথী আদিত্য, মধুসূদন মণ্ডল।



