Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইউটিউব দেখে আঙুর চাষ, টাঙ্গাইলে পুলিশ সদস্যের বাজিমাত

 তাকে দেখে আঙুর চাষে আগ্রহী হচ্ছেন নতুন নতুন উদ্যোক্তা  

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৩, ০২:০৯ পিএম

টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিজ জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে সাফল্যের দেখা পেয়েছেন শৌখিন কৃষি উদ্যোক্তা ও পুলিশ সদস্য জাহিদুল ইসলাম। আর তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব।

ইউটিউবে আঙুর চাষের পদ্ধতি দেখে উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামে নিজের ২০ শতক পতিত জমিতে আঙুরের চারা রোপণ করেন জাহিদুল। ইউটিউব থেকে শিখেই শুরু করেন নিবিড় পরিচর্যা। আর প্রথম চেষ্টায়ই তার আঙুর গাছে এসেছে আশাতীত ফলন।

আঙুর চাষে জাহিদুলের সাফল্যের চিত্র দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার মানুষ তার বাগানে আসছেন। তাকে দেখে আঙুর চাষে আগ্রহী হচ্ছেন নতুন নতুন উদ্যোক্তারা। 

জাহিদুল ঢাকায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটে কর্মরত। তার অনুপস্থিতিতে বাগানের দেখাশোনা করেন ভাতিজা রাকিব হোসেন।

বাগানজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে কাঁচা-পাকা আঙুর। জাহিদুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমি ইউটিউবের মাধ্যমে মিষ্টি আঙুর চাষ করা দেখি। ২০২২ সালে রোজার শুরুতে ২২ হাজার টাকায় ৪৯টি চারা কিনে বাড়ির পাশে ২০ শতক জমিতে রোপণ করি। এতে এক বছরের মধ্যে ফলন আসতে শুরু করে।”

প্রতিটি গাছে ২০ থেকে ২৫ কেজি করে আঙুর হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিদিন প্রায় ৮০ কেজি করে আঙুর তুলে থাকি। বিক্রি করছি ২০০ টাকা কেজি দরে। ইতোমধ্যে প্রায় দেড় লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করা হয়েছে। এ বছর প্রায় ৩ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছি।” 

বাগানে পুরোনো ৫৭টি গাছের পাশাপাশি এ বছর লাল, কালো এবং সবুজ রঙের আরও কিছু নতুন চারা রোপণ করেছেন তিনি।

জাহিদুল ইসলামের ভাতিজা রাকিব হোসেন বলেন, “চাচা বাড়ি না থাকলে বাগানটি আমি দেখাশোনা করি। আমাদের চাষ দেখে পার্শ্ববর্তী গ্রামের অনেক মানুষ আঙুর চাষে আগ্রহী হয়েছেন। এই ফসলে চাষে বেশ লাভবান হওয়া যায়।”

বাগানের কর্মচারী নুরুল ইসলাম বলেন, “শুরু থেকেই আমি এখানে কাজ করছি। এই বাগানের আঙুর বেশ সুস্বাদু।”

থোকায় থোকায় ঝুলে আছে আঙুর/ঢাকা ট্রিবিউন

টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) নুরুল ইসলাম বলেন, “জেলায় এই প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করা হয়েছে। জাহিদুল ইসলাম ভারতের চয়ন জাতের আঙুর চাষাবাদ করেছেন। আমরা সবসময় তাকে সহযোগিতা করছি।”

সখীপুরের লাল মাটিতে আঙুরসহ দেশি-বিদেশি নানা ধরনের ফলের চাষ হচ্ছে উল্লেখ করে নতুন উদ্যোক্তাদেরও সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।

   

About

Popular Links

x