বৈশ্বিক নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি ও জলবায়ু পরিবর্তনকে বিবেচনায় নিয়ে দেশে কৃষির ওপর গুরুত্ব বাড়িয়েছে সরকার। কৃষকদের নানা ধরনের সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে আসছে কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও অধিদপ্তর। ফলে নিরবে দেশে কৃষি বিপ্লব চলছে বলে মনে করেন অনেকে।
প্রচলিত ও ঐতিহ্যগত শস্যের পাশাপাশি নতুন নতুন শস্য চাষে আগ্রহী হচ্ছেন অনেক কৃষক। দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীও কৃষির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। আধুনিক ও সঠিক চাষ পদ্ধতি কৃষিতে সুফলও মিলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নানা ধরনের ফলের চাষ শুরু হয়েছে। আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রসিদ্ধ ফল ড্রাগনেরও চাষ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলটি মেক্সিকো ও ফ্লোরিডায় ব্যাপক আকারে চাষ করা হতো। পরবর্তীতে এশিয়ার দেশ- তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশেও চাষ শুরু হয়।
পার্বত্য জেলাতেও এর চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাঙামাটিতে ড্রাগন চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন মিল্টন চাকমা। ২০২২ সালে রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের মধ্যম পাড়া এলাকায় নিজ জমিতে এই ফলের চাষ শুরু করেন তিনি।
২০১০ সালে ভাগ্য ফেরাতে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি জমান মিল্টন। ২০১৮ সালে ফেরেন দেশে। দেশে ফিরে তিনি কিছু একটা করার চিন্তা করেন। এর মধ্যেই আসে মহামারি করোনাভাইরাস। চোখের পলকে দুই বছর চলে যায়। পরে ইউটিউবে দেখে সিদ্ধান্ত নেন ড্রাগন চাষ করবেন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ব্যাংক ঋণ নিয়ে ২০২২ সালে শুরু করেন ড্রাগনের চাষ। নাটোর থেকে সংগ্রহ করেন চারা। দুই একর জমিতে প্রায় ৪ হাজার ড্রাগন ফলের চারা রোপন করেন তিনি।
মিল্টন জানান, প্রতি কেজি ড্রাগন বর্তমানে স্থানীয় বাজারে ২৫০ টাকা দরে বিক্রয় করেন। এক মৌসুমে ড্রাগন থেকে তার আয় হয় প্রায় ৮০ হাজার টাকা।
ড্রাগনের পাশাপাশি মিল্টনের বাগানে রয়েছে ২৫০টি মাল্টা ও ৫০০টি পেয়ারা গাছ। সব মিলিয়ে লাভবান হচ্ছেন তিনি।
রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “মিল্টন চাকমা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে ছিলেন। তিনি ড্রাগন ফলের বাগান করার আগ্রহ জানান। আমরা তাকে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিয়ে আসছি।”
রাঙামাটি সদর উপজেলার প্রায় ১৫ হেক্টর জমিতে একশো মেট্রিক টন ড্রাগন ফলের চাষ হয়েছে বলে জানান সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, “চাষিদের কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
গত বছরের জুলাইয়ে ভয়েস অব আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের ড্রাগন চাষ নিয়ে কথা বলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ও বরিশালের রহমতপুরের এগ্রিকালচার ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ সুশান্ত কুমার প্রামাণিক।
তিনি জানান, প্রায় আট-দশ বছর আগে থেকে বাংলাদেশে ড্রাগন চাষ শুরু হয়। বাংলাদেশে থাইল্যান্ডের জাত ও দেশীয় উদ্ভাবিত জাতের ড্রাগন চাষ বেশি হয়। দেশের ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, মাগুরায়, রাজশাহী, বগুড়া ও নাটোরে ড্রাগন ফলের চাষ ব্যাপক বেড়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতেও ফলটির চাষ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, “সারাদেশে ড্রাগন উৎপাদনের পরিমাপ প্রতি হেক্টরে ৩০ থেকে ৩২ টন। ড্রাগন ফল সাধারণত মে মাস থেকে শুরু করে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত উৎপাদিত হয়। বছরে তিনবার ফল সংগ্রহ করা হয়।”



