Saturday, September 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অসুস্থ স্বামীকে নদীর পাড়ে ফেলে গেলেন স্ত্রী, উদ্ধার করল পুলিশ

চাঁন মিয়া বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার গুণাহার ইউনিয়নের বাসিন্দা। কিছুদিন ধরে বার্জারস নামে জটিল চর্মরোগে ভুগছেন তিনি। গত পাঁচ দিন ধরে নাগর নদের পাড়ে একা পড়ে ছিলেন তিনি

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৩, ০৯:৪৭ পিএম

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় নাগর নদের তীর থেকে অসুস্থ অবস্থায় চাঁন মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সংসার ও চিকিৎসার খরচ চালাতে না পেরে তাকে তার স্ত্রী মিতা বেগম নদের পাড়ে রেখে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়নের আড়াইগ্রাম এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। গত পাঁচ দিন ধরে একা নদের পাড়ে পড়ে ছিলেন দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত চাঁন মিয়া।

তার বাড়ি জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার গুণাহার ইউনিয়নে। তিনি শ্রমিকের কাজ করতেন। কিছুদিন ধরে তিনি জটিল চর্মরোগে ভুগছেন। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার বা-পায়ে পচন ধরে। খসে পড়ে একটি আঙুল। আরও একটি আঙুল খসে পড়ার উপক্রম।

পায়ে দগদগে ঘায়ের কারণে দুর্গন্ধ ছড়ানোয় চাঁন মিয়াকে পুরোনো আবাস ছাড়তে হয়েছে। নতুন করে কেউ বাড়ি ভাড়া দিতেও রাজি হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে নদের পাড়ে তাঁবু টাঙিয়ে তাকে রেখে যান স্ত্রী।

চাঁন মিয়া জানান, তার অভাবের সংসার। প্রায় ১০ বছর আগে মিতা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। সংসারে আট বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তিনি এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর স্ত্রী ধার ও সাহায্য তুলে চিকিৎসা করিয়ে আসছিলেন। কিন্তু অসুখের কোনো উন্নতি হচ্ছে না। সংসার চালাতে হিমশিম অবস্থা তৈরি হলে তাকে নদের পাড়ে তাঁবুতে রেখে তার স্ত্রী কাজের সন্ধানে ঢাকায় গেছেন। গত পাঁচ দিন ধরে তিনি সেখানেই পড়ে আছেন। স্ত্রী কিছু শুকনো খাবার ও পানি দিয়ে গিয়েছিলেন, সেগুলো শেষ হয়েছে।

পুলিশ চাঁন মিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তিনি এখন চিকিৎসাধীন।

দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, গ্রাম পুলিশের কাছে খবর পেয়ে মঙ্গলবার চাঁন মিয়াকে উদ্ধার করা হয়। জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “তার স্ত্রী মিতা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি জানিয়েছেন, চিকিৎসা ও খাবার খরচ বহনে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি স্বামীকে নাগর নদের পাড়ে রেখে গেছেন। গত পাঁচ দিন ধরে স্ত্রীর দিয়ে যাওয়া খাবার খেয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে গ্রামের কেউ চাঁন মিয়ার খোঁজ নেয়নি; খাবারও দেয়নি। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে অমানবিকভাবে তাঁবুতে কাতরাচ্ছিলেন তিনি।”

   

About

Popular Links

x