Sunday, June 16, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সাঈদীর মৃত্যুতে ফেসবুকে শোক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্রলীগের ছয়জন বহিষ্কার

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাঈদী আদালতের রায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী। তার মৃত্যুতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ছাত্রলীগের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কাজ করেছেন বহিষ্কৃতরা

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৩, ০৮:০৩ পিএম

যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুতে ফেসবুকে শোক প্রকাশ করায় দলের ছয় নেতাকর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখা ছাত্রলীগ।

বুধবার (১৬ আগস্ট) সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা হলেন- আখাউড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক বাইজিদ খান, আশুগঞ্জের তালশহর ইউনিয়ন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ সোহান, আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়ন যুগ্ম-আহ্বায়ক ফুরকান আহম্মেদ, আখাউড়া পৌর ছাত্রলীগের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি রবিন খান খাদেম, কসবার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নাজমুল সরকার ও সরাইল উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী রিয়াজ উদ্দিন খান মাইনুর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাঈদী আদালতের রায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী। তার মৃত্যুতে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কাজ করেছেন। তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হলো।

স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্ষদের সুপারিশ চাওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

সোমবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাঈদীর মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সাঈদীর মৃত্যুকে ঘিরে সহিংস তাণ্ডব শুরু করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তারা জনসাধারণের জানমালের ক্ষতির চেষ্টা করে। দেশব্যাপী অনেক জায়গায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জামায়াত নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। পুলিশ তাদের তৎপরতা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে।

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক চিকিৎসককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তিনি মঙ্গলবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

প্রাণনাশের হুমকিকে জামায়াতের সন্ত্রাসী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসাবে জামায়াতের নায়েবে আমির সাঈদীর বিচার শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর। ৮৩ বছর বয়সী সাঈদী তার আগে থেকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো ২০টি মানবতাবিরোধী ঘটনার অভিযোগ আনা হয় সাঈদীর বিরুদ্ধে।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এসব মামলায় রায় ঘোষণা করে ট্রাইবুনাল। ঘোষিত রায়ে বলা হয়, ১৯৭১ সালে সংঘটিত হত্যা, লুণ্ঠন, নির্যাতনসহ অন্তত ২০টি মানবতাবিরোধী অভিযোগের মধ্যে আটটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

এর মধ্যে দুটো অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। যার মধ্যে রয়েছে পিরোজপুরে ইব্রাহিম কুট্টি হত্যা এবং বিসা বালি হত্যা।

ওই রায়ের পর দেশজুড়ে সহিংসতা চালায় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। ওই তাণ্ডবে প্রথম তিন দিনেই নিহত হন অন্তত ৭০ জন। এছাড়া বহু গাড়ি-দোকানপাট ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, হিন্দুদের মন্দির-ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

সাঈদী আপিল করলে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দেয়। তাতে সাজা কমে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ আসে। ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন হলেও তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

About

Popular Links