বাংলাদেশে বর্তমানে প্রধান সমস্যা দ্রব্যমূল্যের ঊধর্বগতি। এ বিষয়ে আগে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বাজার সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছিলেন। এবার কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকও সিন্ডিকেটের কথা বললেন।
তিনি বলেছেন, “আলু নিয়ে সিন্ডিকেট করেছে হিমাগারের মালিকরা, সিন্ডিকেট ভাঙার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। শিগগিরই আলুর বাজার স্বাভাবিক হবে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কাঁচাবাজারের দাম বেশি।”
বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুরে কৃষিমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কোনো দেশের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না।”
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “কোনো দেশই স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দিয়ে নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না, বিএনপি নিজেদের কবর নিজেরাই খুঁড়ছে। আপনারা যে কবরে পা দিয়েছিলেন, সেখান থেকে এখনো উঠতে পারেন নাই।”
ক্ষমতাসীন দলের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন (বিএনপি) কিছুই করতে পারবেন না। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে আন্দোলন করছেন; হরতাল, সন্ত্রাসসহ দেশকে অস্থিতিশীল করছেন। আপনাদের আন্দোলন-সংগ্রামে দেশের জনগণ নেই। আওয়ামী লীগ উন্নয়ন করেছে, শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় রাখবেন।”

প্রসঙ্গত, গত ২৪ মে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বাংলাদেশিদের ভিসা দেবে না দেশটি। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র।
২২ সেপ্টেম্বর মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাদানে দায়ী ও জড়িত ব্যক্তিদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের পদক্ষেপ নিচ্ছে। এসব ব্যক্তির মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের সদস্য রয়েছেন।”
পরে যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা দূতাবাসের মুখপাত্র ব্রায়ান শিলার গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা সতর্কতার সঙ্গে তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার পর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করেছি।”
তবে কাদের ওপর এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তা জানাননি তিনি। এ বিষয়ে ব্রায়ান শিলার জানান, এসব ভিসা বিধিনিষেধের আওতায় আসা ব্যক্তিদের নাম তারা প্রকাশ করবেন না। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের আইনে ভিসাসংক্রান্ত তথ্য গোপনীয় বিষয়।
এদিকে ভিসানীতি কার্যকরের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলে আসছে, তারা ভিসানীতি ও নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করে না। দেশে সংবিধান মেনেই নির্বাচন হবে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কথাও বলেছেন ক্ষমতাসীন দলের কেউ কেউ।
আর মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ভিসানীতিকে “অনেকটা স্বাগত” জানালেও বলছে, ভিসানীতি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের জন্য লজ্জাজনক। এর জন্য দায়ী বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত ভিসানীতিকে গুরুত্ব দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। তা না-হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।



