Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মতিঝিল রুটে মেট্রোরেল চালুর প্রথম দিনেই যাত্রীর ভিড়

  • শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেট্রোরেলের আগারগাঁও-মতিঝিল রুট উদ্বোধন করেন
  • স্বল্প সময়ে যাতায়াত করতে পারায় উচ্ছ্বাস যাত্রীদের
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:৩৬ পিএম

শেওড়াপাড়া থেকে মেট্রোরেলে উঠেছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক ফাতেমা জাহান। অন্যান্য সময় গণপরিবহনে যাতায়াতে যানজটের ভোগান্তি থাকলেও রবিবার মেট্রোরেলের ঝঞ্ঝাবিহীন যাত্রায় তার মতিঝিল পৌঁছাতে লেগেছে ১২ মিনিট। এতো দ্রুত অফিসে যেতে পারায় ভীষণ উচ্ছ্বসিত তিনি। শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেট্রোরেলের মতিঝিল পর্যন্ত যাতায়াত উদ্বোধন করেন। এর পর থেকেই এ পথে মেট্রোরেলের যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। স্বল্প সময়ে যাতায়াত করতে পারায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন যাত্রীরা।

রবিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ছয়টার দিক থেকেই যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। মতিঝিল স্টেশনের নিরাপত্তারক্ষী আনসার সদস্য হাসানুর রহমান জানান, সকাল ৭টা ১৫ এর দিকে স্টেশনের গেট খুলে দেওয়া হয়। সাড়ে সাতটায় মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী প্রথম ট্রেন ছেড়ে যায়। 

স্টেশন সূত্র জানায়, প্রতি ১০ মিনিট পরপর স্টেশন থেকে মেট্রোরেল ছেড়ে যাচ্ছে। এভাবে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলাচল অব্যাহত থাকে। এতে মতিঝিল থেকে ছেড়ে যাওয়া মেট্রোরেল মাত্র ৩০ মিনিটেই উত্তরা পৌঁছে যাচ্ছে। এজন্য প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা করে। এই রুটের সর্বোচ্চ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১০০ টাকা করে। নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এভাবেই চলবে মেট্রোরেল। তবে পুরোদমে চলাচল শুরু হলে প্রতি আট মিনিট পরপর ট্রেন ছেড়ে যাবে। 

সকালে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় ব্যাপক ভিড়। যাত্রীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মেট্রোরেলে উঠছেন। স্বল্প সময়ে পৌঁছাতে পারায় উচ্ছ্বসিত অনেকেই। এদিন প্রয়োজনের তাগিদে বের হওয়া যাত্রী ছাড়াও প্রথম দিন স্টেশন ঘুরতে ও প্রথম মেট্রোরেলে চড়ার অভিজ্ঞতা নিতেও এসেছেন অনেকেই। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকেট কাউন্টারের ভিড়ও বাড়তে থাকে। আবার অনেককেই দেখা গেছে ভেন্ডিং মেশিনে টিকেট কাটতে।

ছোট ভাই ও বাবার সঙ্গে মেট্রোরেলে চড়ার অভিজ্ঞতা নিতে এসেছিলেন আরামবাগ এলাকার বাসিন্দা ও উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবিবা। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “সড়কে চলাচল করতে গিয়ে মেট্রোরেলের কাজ দেখেছি। আজ চড়েও অভিজ্ঞতা নিলাম।”

প্রথমবারের মতো মেট্রোরেলে চেপে স্কুলে যাচ্ছিলেন হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাউজিয়া আদিবা। তিনি বলেন, “ক্লাস ১২টায়। কিন্তু জ্যামের কারণে এতো দিন আগে বের হতাম। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো। তবে এখন থেকে আর সেটি হবে না।”

এমআরটি পাস নিতে আসা ফারুক চৌধুরী নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, “আজ বাসে এসেছি। তবে কাল থেকে মেট্রোরেলে আসবো। তাই পাস বানালাম।”

সরকারি তথ্য মতে, প্রথম ধাপে মতিঝিল থেকে উত্তরা রুটে ১২ স্টেশনে মেট্রোরেল থামবে। এরমধ্যে মতিঝিল থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত তিনটি স্টেশনে ট্রেন থামানো হচ্ছে। 

যদিও যাত্রীরা বাকি স্টেশন দ্রুত চালু করা ও৷ উত্তরা-মতিঝিল রুটে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বৃদ্ধির দাবি জানান। আহসান নামে এক যাত্রী বলেন, “অন্য স্টেশন দ্রুত চালু ও মেট্রোরেল চলাচলের সময় বৃদ্ধির দাবি জানাই। বিশেষ করে অফিস ছুটির সময়ে।”

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানায়, মতিঝিল-আগারগাঁও রুটে শুরুতে ফার্মগেট, সচিবালয় ও মতিঝিল এই তিন স্টেশনে মেট্রোরেল থামবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির স্টেশনেও মেট্রোরেল থামবে। এরমধ্যে শুরুতে যথাক্রমে টিএসসি স্টেশন ও কারওয়ান বাজার স্টেশন চালু হবে। 

উত্তরা থেকে আগারগাঁও রুটের নয়টি স্টেশনের সব স্টেশনেই যাত্রী ওঠানামা করছে। উত্তরা-মতিঝিল রুটে মোট ১৬টি স্টেশন রয়েছে। মেট্রোরেলের মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ কাজ চলছে। এটির নির্মাণ কাজ ২০২৫ সালে শেষ হবে। তখন আরও একটি স্টেশন যুক্ত হবে। 

শনিবার দ্বিতীয় ধাপে মেট্রোরেলের আগারগাঁও থেকে মতিঝিল রুট উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মোট তিন ধাপে এ মেট্রোরেল নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে উত্তরা থেকে আগারগাঁও রুটের কাজ শেষ হয়৷ দ্বিতীয় ধাপে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল রুটের কাজ শেষ হয়। সবশেষ তৃতীয় ধাপে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত কাজ চলছে। এ অংশের অবকাঠামো নির্মাণের অগ্রগতি ১৭.৩০%। ২০২৫ সালের জুনে এ কাজ সম্পন্ন হবে।

About

Popular Links