জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্মপরিকল্পনার আওতায় রাজশাহীতে গণশুনানি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এই গণশুনানিতে বিআরটিএর কর্মকর্তা ও পুলিশের সার্জেন্টদের হয়রানির কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন চালকদের কেউ কেউ।
শুনানিতে বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সাবিহা সুলতানা, বিআরটিএ রাজশাহী সার্কেলের উপ-পরিচালক এস এম কামরুল হাসান ও সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
মো. জনি নামের এক ট্রাকচালক অভিযোগ করেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ড মুদ্রিত হওয়ার আগে চালকদের ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয় বিআরটিএ। কিন্তু রাজশাহী অঞ্চলের অনেক ট্রাফিক সার্জেন্ট ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স মানতে নারাজ। তারা ই-ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী চালকদেরও মামলা দেন।
তিনি বলেন, “এটা দিয়ে (ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স) গাড়ি চালানো যায় না। সার্জেন্টদের সঙ্গে কথাও বলা যায় না। কিছু বললেই সার্জেন্ট বলেন, ‘যত কথা, ২০০ টাকা করে তত জরিমানা বাড়বে।’ তারা হয় মামলা দেয় অথবা টাকা নেয়।”
এসব ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, “ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স চালুর পরপরই আমরা পুলিশের মহা-পরিদর্শককে (আইজিপি) চিঠি দিয়েছি। যেন মামলা দেওয়া না হয়। এই কার্ডে কিউআর কোড আছে, সার্জেন্ট চাইলেই যাচাই করতে পারেন।”
এরপর বিআরটিএ চেয়ারম্যান রাজশাহী জেলা পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শক আনোয়ার হোসেনকে ডেকে পাঠান। তিনি ই-ড্রাইভিং লাইসেন্সের বৈধতা সম্পর্কে জানেন বলে জানান। তখন বিআরটিএ চেয়ারম্যান তাকে এই লাইসেন্সের বিষয়ে সব ট্রাফিক সার্জেন্টকে জানানোর নির্দেশনা দেন।
বিআরটিএর হয়রানির কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন বাসচালক আবদুল মমিন। তিনি বলেন, “আমার লাইসেন্সের বয়স ১০ বছরের বেশি। এখন ভারি যানের লাইসেন্স প্রয়োজন। ঘুরতে ঘুরতে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। চার মাস হয়েছে চাকরিও নেই। এখন নতুন করে হালকা যানের লাইসেন্স নিতে হবে। তাছাড়া ভারি গাড়ি চালানো যাবে না।”
অভিযোগ করে আবদুল মমিন বলেন, “বিআরটিএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা যায় না স্যার। বলে যে, বেরিয়ে যান।” এ সময় তাকে সমর্থন দিয়ে অন্য চালকেরা হাততালি দেন। এরপর বিআরটিএ চেয়ারম্যান তাকে এক দিনের মধ্যে লাইসেন্স দেওয়ার নির্দেশ দেন কর্মকর্তাদের।
শুনানিতে কয়েকজন চালক অভিযোগ করে বলেন, তারা ২০১৯ সালে লাইসেন্স করতে দিয়েছেন। এখনও হাতে পাননি। দুই-তিন মাস পরপর বিআরটিএ কার্যালয়ে গেলে হাতে লেখা লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় বিআরটিএ চেয়ারম্যান কর্মকর্তাদের কাছে এর কারণ জানতে চান।
কর্মকর্তারা জানান, আগে লাইসেন্স কার্ড প্রস্তুতের দায়িত্বে ছিল টাইগার আইটি। এই প্রতিষ্ঠানের কারণে প্রায় ৩৫০ জন চালক এমন দুর্ভোগের মধ্যে আছেন। তখন বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি কালো তালিকাভুক্ত হয়ে পড়ায় আর কাজ পায়নি। তখন সারা দেশের কিছু ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাজ তারা শেষ করেনি।”
বিআরটিএ চেয়ারম্যান জানান, এবার তিনি এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন। আগের জমা দেওয়া টাকাতেই চালকদের নতুন করে লাইসেন্স দেওয়া হবে।
গণশুনানিতে রাজশাহী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক, রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী, রাজশাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফরিদ আলী প্রমুখ বক্তব্য দেন।



