প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা বঙ্গভবনে শপথ নেবেন বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি)। শপথের পর তাদের দায়িত্ব বণ্টন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। বঙ্গভবনের মুখপাত্র রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানান, সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন।
নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়েছে বাহারি সব খাবারের। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের খাবারের মেন্যু থেকে জানা গেছে, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আপ্যায়নে অন্যান্যবারের মতো এবারও খাবারে বেশ বৈচিত্র্য রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আপ্যায়ন করতে নানা ধরনের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মাছ, মাংস ও সবজি জাতীয় খাবারকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ফলেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি জানান, খাবার হিসেবে দেওয়া হবে মাটন শিক কাবাব, চিকেন সাসলিক ও ভেটকি মাছের ফিশ ফিঙ্গার। এছাড়া, বয়েল্ড ভেজিটেবলসের সঙ্গে দেওয়া হবে মাশরুম ও পনির সমুচা। মিষ্টি মুখ করাতে পরিবেশন করা হবে পাটিসাপ্টা পিঠা ও টার্কিশ মিষ্টি বাকালাভা।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জানান, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সন্ধ্যার আপ্যায়নে থাকবে কমলা, আপেল ও আঙুর দিয়ে সাজানো ফ্রুটস বাস্কেট। আর বঙ্গভবনের সবুজ লনে সাজানো শামিয়ানার নিচে চা আর কফিতে জমবে শেষ সময়ের আড্ডা আর খোশগল্প।
এ উপলক্ষে প্রায় ১,৪০০ অতিথিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে বঙ্গভবন।
গত ৭ জানুয়ারি ২৯৯ আসনে ১২তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ ২২২টি, জাতীয় পার্টি ১১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২টি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) একটি করে আসন পেয়েছে। একটি আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি।
এদিকে নতুন মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিদায়ী মন্ত্রিসভার ৩০ জন স্থান পাননি নতুন মন্ত্রিসভায়। আর প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছেন ১৪ জন। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য ৩৭ জন।
এবার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের মধ্যে পূর্ণ মন্ত্রী হচ্ছেন- আ ক ম মোজাম্মেল হক (গাজীপুর-১),ওবায়দুল কাদের (নোয়াখালী-৫), নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন (নরসিংদী-৪), আসাদুজ্জামান খান (ঢাকা-১২), ডা. দীপু মনি (চাঁদপুর-৩), মো. তাজুল ইসলাম (কুমিল্লা-৯), মুহাম্মদ ফারুক খান (গোপালগঞ্জ-১), আবুল হাসান মাহমুদ আলী (দিনাজপুর-৪), আনিসুল হক (বাহ্মণবাড়িয়া-৪), মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ (চট্টগ্রাম-৭), মো. আব্দুস শহীদ (মৌলভীবাজার-৪), সাধন চন্দ্র মজুমদার (নওগাঁ-১), র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩), মো. আব্দুর রহমান (ফরিদপুর-১), নারায়ণ চন্দ্র চন্দ (খুলনা-৫), আব্দুস সালাম (ময়মনসিংহ-৯), মহিবুল হাসান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৯), ফরহাদ হোসেন (মেহেরপুর-১), মো. ফরিদুল হক খান (জামালপুর-২), মো. জিল্লুল হাকিম (রাজবাড়ী-২), সাবের হোসেন চৌধুরী (ঢাকা-৯), জাহাঙ্গীর কবির নানক (ঢাকা-১৩), নাজমুল হাসান (কিশোরগঞ্জ-৬), স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এবং সামন্ত লাল সেন।
প্রতিমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন- বেগম সিমিন হোমেন রিমি (গাজীপুর-৪), নসরুল হামিদ (ঢাকা-৩), জুনাইদ আহমেদ পলক (নাটোর-৩), মোহাম্মদ আলী আরাফাত (ঢাকা-১৭), মো. মহিববুর রহমান (পটুয়াখালী-৪), খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (দিনাজপুর-২), জাহিদ ফারুক (বরিশাল-৫), কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (খাগড়াছড়ি), বেগম রুমানা আলী (গাজীপুর-৩), শফিকুর রহমান চৌধুরী (সিলেট-২) এবং আহসানুল ইসলাম টিটু (টাঙ্গাইল-৬)।



