Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: বারবার পার পেয়ে বেপরোয়া ছাত্রলীগ

  • প্রায়ই নানা অপরাধমূলক ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে
  • প্রশাসন থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তার বাস্তবায়ন হয় না
আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:২৯ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায়ই ছিনতাই, নারী নিপীড়ন, মারধরসহ নানা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার অধিকাংশের পেছনেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। তবে, প্রশাসন থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তার বাস্তবায়ন হয় না। যে কারণে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থামছে না, বরং ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দম্পতিকে ডেকে নিয়ে স্বামীকে মীর মোশাররফ হোসেন হলের একটি কক্ষে আটকে স্ত্রীকে পাশের জঙ্গলে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানসহ বহিরাগত এক তরুণ জড়িত। তাদের পালাতে সহায়তা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধ বাড়ছে। গণরুম-গেস্টরুম কালচার বন্ধ না করা এবং বিভিন্ন সময়ে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত না করাই “ধর্ষক” মোস্তাফিজের জন্ম দিয়েছে।

ছাত্রলীগের নারী নিপীড়ন

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ বছরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বহিরাগত নারীকে শারীরিক হেনস্তার ১০টিরও বেশি ঘটনা ঘটেছে। যার সব ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলেও অধিকাংশই সময়েই পার পেয়ে যান অভিযুক্তরা।

২০২৩ সালের আগস্টে বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে ছিনতাইয়ের শিকার হন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এক সহকারী অধ্যাপক। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।

২০২২ সালের জুন মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও আরেক নারী শিক্ষার্থীকে শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ উঠে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দুই ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে লাঞ্ছিত ও এক সংবাদকর্মীকে মারধরের অভিযোগে ছাত্রলীগের পাঁচজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

ক্যাম্পাসে ধর্ষণ-নীপিড়নের বিরুদ্ধে জাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ (৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪)/ঢাকা ট্রিবিউন

একই বছরের নভেম্বরে এক শিক্ষার্থী ও তার বান্ধবীর কাছে চাঁদা দাবি করে না পাওয়ায় মারধর ও ধর্ষণের হুমকি দিয়ে কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগের তিনজনকে আজীবন এবং দু’জনকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। 

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত এক নারীকে ইভটিজিংয়ে বাধা দেওয়ায় এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তিন ছাত্রলীগ কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক ছাত্রীকে যৌন হেনস্তা, ছিনতাই ও মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ। যারা সবাই ছাত্রলীগ নেতাকর্মী।

চাঁদাবাজি ও মারধর

গত বছরের ২৫ জুলাই সাভার থেকে আশুলিয়া রুটে চলাচলকারী লেগুনা থেকে দৈনিক ২৫ টাকা হারে চাঁদা দাবি করে ২৪টি ক্যাম্পাসে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল ফারুক ইমরান, শাহ পরাণ ও হাসান মাহমুদ ফরিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, লেলিন মাহবুব এবং উপছাত্র-বৃত্তিবিষয়ক সম্পাদক আল-রাজি সরকারের বিরুদ্ধে।

একই বছরের ১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী পানধোয়া এলাকার ডিশ ব্যবসায়ী মমিনউল্লাহর কাছে দাবি করা পাঁচ লাখ টাকা না পেয়ে লাইনম্যান খায়রুলকে ক্যাম্পাসে এনে মারধরের অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক হাসিবুর রহমানের বিরুদ্ধে।

২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অপসারণ করার পরপরই একটি অডিও ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া সেই অডিও থেকে জানা যায়, ওই বছরের ৯ আগস্ট তৎকালীন উপাচার্য ফারজানা ইসলামের পরিবার এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের প্রথম সারির নেতারা অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ‘‘ঈদ সালামি’’ হিসেবে ফারজানা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শীর্ষনেতাদের মোট এক কোটি টাকা দেন।

ওই ঘটনায় জাবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত হয়। থলের বিড়াল বেরিয়ে এলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়।

৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর বাজারে এক জুতার দোকানদার ও তার কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাব্বির হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসানের বিরুদ্ধে।

সায়েম হাসান নামের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী কানে অস্ত্রোপচার করায় গত বছরের ১৬ মে ছাত্রলীগের গেস্টরুমে যাননি। এ কারণে শহীদ সালাম-বরকত হলের পলিটিক্যাল ব্লকে ডেকে নিয়ে তাকে হল ছাত্রলীগের নেতারা মারধর করেন। পরদিন রাতে তাকে আবার গেস্টরুমে ডেকে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর ও মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী। ২২ মে এ ঘটনায় প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর হল ছাত্রলীগের আট নেতার নামে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী।

গত বছরের জুলাইয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের গাড়িতে অ্যাম্বুলেন্স ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রাখেন। ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ নিয়ে তিন দিন পর অ্যাম্বুলেন্সটি ছেড়ে দেন তিনি।

এছাড়াও ২০২৩ সালে পৃথক তিনটি ঘটনায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে হেনস্তা করেন ছাত্রলীগ নেতারা। এর বাইরে গেল কয়েক বছরে অন্তত ৩০টি চাঁদাবাজি, মারধর, ছিনতাই, পার্শ্ববর্তী এলাকায় জমি দখল, র‌্যাগিংসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে এর বেশিরভাগ ঘটনারই বিচার হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে শাস্তি দেওয়া হলেও তার বাস্তবায়ন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অনেকে বহিষ্কার হয়েও আবাসিক হলে অবস্থান করেছেন।

জুবায়ের হত্যাকাণ্ড

২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রলীগ নেতা ছাত্র জুবায়ের আহমদেকে কুপিয়ে জখম করেন সংগঠনের প্রতিপক্ষ নেতকর্মীরা। পরদিন ভোরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশুলিয়া থানায় মামলা করে। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।

ফাইল ছবি: নিহত জুবায়ের আহমেদ/সংগৃহীত

জুবায়ের হত্যা মামলায় ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালত রায় দেন। রায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়, খালাস পান দুজন। আসামিরা আপিল করলে ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি এক রায়ে পাঁচজনের  মৃত্যুদণ্ড ও দুজনের যাবজ্জীবন বহাল রাখেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ মামলায় বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

তবে সাজাপ্রাপ্ত পাঁচজনই ধরাছোঁয়ার বাইরে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিকবার বিদেশ থেকে তাদের হাস্যোজ্জ্বল ছবি পোস্ট করতে দেখা গেছে।

সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতির ভাইয়ের ‘টর্চার সেল’

ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আবাসিক হলে থাকছেন আরমান খান যুব। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের ছোট ভাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলের ১২৬ নম্বর কক্ষে থাকেন তিনি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যুব কক্ষটিকে বানিয়েছেন “টর্চার সেল”। সেখানে প্রায়ই বাইরে থেকে লোক ধরে এনে মারধর করা হয়। মাদকের কারবারও চলে ওই সেখানে।

আরমান খান যুব বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের (৪১তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তার সহপাঠীরা ক্যাম্পাস ছেড়েছেন কয়েক বছর আগে।

২০১৮ সালে আল নাহিয়ান খান জয় ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। আর ২০১৯ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন যুব। যা এখনো অব্যাহত। জাবি ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল তার ঘনিষ্ঠ।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে যুব’র বিরুদ্ধে। জাহিদ হাসান ইমন নামের ওই ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক।

এর আগেও বেশ কয়েকজন ১২৬ নম্বর কক্ষে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মূলত, সাভার ও আশুলিয়া স্থানীয় ক্যাবল টিভি ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী, মাদক কারবারি কেউ যুবর কথার বাইরে গেলে মওলানা ভাসানী হলে এনে তাকে মারধর করা হয় বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

তবে এসব ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যে কারণে এখনও আবাসিক হলেই অবস্থান করছেন যুব।

হলের র‌্যাগিং নিয়ে অভিযোগ, নিপীড়নের অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত অভিযোগ হলেও বিচার নিশ্চিত করছে না প্রশাসন। এমন বিচারহীনতাই অপরাধীদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেয় বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফ্রন্টের সংগঠক সোহাগি সামিয়া।

তিনি বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব চলছে। এটা একদিনে তৈরি হয়নি। অনেক দিনের ফলাফল গতকাল মোস্তাফিজ দেখিয়েছে। একটা নবীন শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে শুরুর দিন থেকেই শারীরিক ও মানসিক টর্চারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যেটার ফলাফল আজকের এই মুস্তাফিজ, আজকে সে ধর্ষকে পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কখনোই সমস্যার মূলোৎপাটন করতে চায় না বরং জিইয়ে রাখতে চায়।”

প্রশাসন বিচার না করে ধর্ষক কিংবা নিপীড়কদের বাঁচিয়ে রাখতে চায় বলে দাবি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের আহ্বায়ক আলিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, “এই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা আজ নিরাপদ না। কর্তৃপক্ষ একটা নিরাপদ ক্যাম্পাস না দিতে পারার কারণ তাদের বিচারহীনতা। বিভিন্ন হল থেকে নবীন শিক্ষার্থীরা র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে কিংবা নিপীড়নের শিকার হয়ে কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ দাখিল করে। কিন্তু পরবর্তীতে আর কোনো সমাধান পাওয়া যায় না।”

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল বলেন, “ছাত্রলীগে অপরাধীদের স্থান নেই। বৃহৎ ছাত্র সংগঠন হওয়ায় প্রতিটি সদস্যের বিষয়ে সার্বক্ষণিক তদারকি করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এরই সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু লোকজন নানা সময়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। যার কারণে আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। মূলত নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতেই তারা সংগঠনে অনুপ্রবেশ করে।”

তিনি বলেন, “আমরা ভবিষ্যতে বেশি বেশি কাউন্সেলিং এবং কর্মীসভার মাধ্যমে শাখা ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে আরও বেশি সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত রাখব।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, “ছাত্র শৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের প্রক্টরিয়াল বডি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে আমরা সেটার তদন্ত করি এবং ব্যবস্থা নিই।”

   

About

Popular Links

x