Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বরিশালের ৯০% বিদ্যালয়ে নেই শহিদ মিনার

জেলার ১,৫৯২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫৩টিতে শহিদ মিনার রয়েছে

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:২৫ পিএম

শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহিদদদের স্মরণের সবশেষ প্রস্তুতি চলছে। ভাষা শহিদদের স্মরণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। তবে বরিশাল জেলার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার না থাকায় শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়গুলোতে অচিরেই শহিদ মিনার নির্মাণ করে এই সমস্যার সমাধান চেয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল জেলার মাত্র ১০% সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার রয়েছে। জেলায় ১,৫৯২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যার মধ্যে ১৫৩টি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার রয়েছে। এর মধ্যে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ২০৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনোটিতেই শহিদ মিনার নেই।

বাকি উপজেলাগুলোর মধ্যে আগৈলঝাড়ায় ৯৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২টি, উজিরপুরে ১৮১টির মধ্যে ৩০টিতে, গৌরনদীতে ১৩১টির মধ্যে ১২টিতে, সদর উপজেলার ২০৩টির মধ্যে ১৩টিতে, বাকেরগঞ্জে ২৮০টির মধ্যে ১৬টিতে, বানারীপাড়ায় ১২৬টির মধ্যে ৫টিতে, বাবুগঞ্জে ১৩৪টির মধ্যে ৩০টিতে, মুলাদীতে ১৪০টির মধ্যে ১৯টিতে শহিদ মিনার রয়েছে।

বাকেরগঞ্জের রাঙ্গাশ্রী ইউনিয়নে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নাগেরকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও কোনো শহিদ মিনার নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নেওয়াজ মল্লিক জানান, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কর্তৃপক্ষকে বারবার একটি শহিদ মিনার নির্মাণের কথা বললেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সারাহ বলেন, “শহিদ মিনার না থাকায় কেউ বিদ্যালয়ে এসে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বা ফুল দিতে পারে না।”

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম আকতারুজ্জামান বলেন, “আমি এখানে নতুন। শহিদ মিনারের সংখ্যা না দেখে বলতে পারব না। তবে যতদূর জানি শহিদ মিনারের জন্য সরকারি পর্যায়ে বাজেট আসে। এমনকি স্থানীয় পর্যায়েও কেউ শহিদ মিনার নির্মাণ করতে চাইলে তা করতে পারেন।”

শিক্ষাবিদ দাশগুপ্ত আশীষ কুমার বলেন, “বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালে যারা শহিদ হয়েছিলেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহিদ মিনার প্রয়োজন। কেন একুশে ফেব্রুয়ারি পালিত হয় সে সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের সব কিছু জানা উচিত। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই সেখানে শহিদ মিনার নির্মাণ করা জরুরি।

বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সোহেল মারুফ বলেন, “প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটি করে শহিদ মিনার থাকতে হবে। এটি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হবে। শহিদ মিনার নির্মাণে কোনো বাধা থাকলে জেলা প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করবে।”

About

Popular Links