ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদুস্যদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘‘এমভি আবদুল্লাহ’’, ভেতরে আছেন ২৩ বাংলাদেশি। তাদেরই একজন ইঞ্জিনিয়ার তৌফিকুল ইসলাম। তার বাড়ি খুলনার বয়রা এলাকায়।
জিম্মি তৌফিকের পরিবারে নেই ঈদ আনন্দ। মাঝে মাঝে বাড়িতে কথা বলার জন্য দুই মিনিট সময় দেয় দস্যুরা। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) তৌফিক পরিবারকে জানান, তারা ঈদের নামাজ পড়েছেন। শারীরিকভাবে সুস্থও আছেন।
কিন্তু এতে স্বজনদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কমেনি। তৌফিকের দুই শিশু সন্তানের জন্যও হয়নি ঈদের কেনাকাটা। তাদের বাড়িটি এখন নিষ্প্রাণ।
তৌফিকের মা দিল আফরোজা বলেন, ‘‘ছেলের জন্য দুশ্চিন্তা তো আছেই। না পারছি দেখতে, না পারছি কাছে যেতে। বুকের ধন দস্যুর হাতে জিম্মি। এ অবস্থায় ঈদ আনন্দ আসে না। কারও জন্য কেনাকাটা করা হয়নি। ওর মেয়ে তাসফিয়া নামাজ পড়ে দোয়া করে। ছোট ছেলে মুসাফি বলে, আমি গিয়ে যুদ্ধ করে বাবাকে ছাড়িয়ে আনব।’’
তিনি বলেন, ‘‘ছেলে বলেছে, তারা ভালো আছে। জাহাজে রোজা পালন করছে। জামাতে তারাবি নামাজ পড়েছে। দুর্ব্যবহার না করলেও বেশিক্ষণ ফোনে কথা বলতে দেয় না। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে দিলেও পাশে জলদস্যুরা দাঁড়িয়ে থাকে। আগে সবাইকে এক কক্ষে রাখলেও এখন যার কেবিনে থাকতে পারছে।’’
তৌফিকের স্ত্রী জোবাইদা নোমান বলেন, ‘‘আমার ছোট ছোট ছেলেমেয়ে খুব কষ্টে আছে। বাবার জন্য তারা অস্থির হয়ে উঠেছে। তারাও ঈদের আনন্দ নিয়ে ভাবছে না। ওরা বাবাকে নিয়ে উৎসব করতে চাইছে। জাহাজে জিম্মিরা এক সাথে ঈদের নামাজ জামাতে আদায় করেছে। এমন খবর ভালো লাগলেও ওকে ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত স্বস্তি আসবে না।’’
আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে ১২ মার্চ দুপুরে ভারত মহাসাগরে জলদস্যুর কবলে পড়ে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ “এম ভি আবদুল্লাহ”। জাহাজটি চট্টগ্রামের কবির গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এস আর শিপিং লিমিটেডের মালিকানাধীন।
জিম্মিকাণ্ডের নবম দিনে এসে ২০ মার্চ জাহাজটির মালিকপক্ষের সঙ্গে প্রথমবারের মতো যোগাযোগ করে জলদস্যুরা।
তাদের উদ্ধারের বিষয়ে ৯ এপ্রিল নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে বন্দি নাবিকদের এ মাসেই সুষ্ঠুভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। সুষ্ঠুভাবে দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া আমাদের প্রধান দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।”



এ মাসেই উদ্ধার পাবেন জলদস্যুদের হাতে বন্দি নাবিকরা, আশা প্রতিমন্ত্রীর