Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টাঙ্গাইলে চার কোটি টাকার সেতুটিতে উঠতে লাগে মই

  • দুই পাশে অ্যাপ্রোচের মাটি নেই
  • অর্থায়নে টাঙ্গাইল পৌরসভা 
  • কাজ ফেলে রেখে উধাও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান
আপডেট : ১৬ মে ২০২৪, ০১:০৪ পিএম

টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় লৌহজং নদীতে তিন বছর আগে নির্মাণ করা হয় একটি সেতু। প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির দুই পাশের অ্যাপ্রোচে মাটি নেই। ফলে বাঁশের মই বেয়ে সেতুটি পারাপার করতে হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষকে। মই বেয়ে উঠে কেউ কেউ পার হলেও অধিকাংশ মানুষকে দীর্ঘ পথ ঘুরে বিকল্প রাস্তায় চলাচল করতে হয়। আবার বাঁশ-কাঠের মই দিয়ে সেতুতে উঠতে মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।

স্থানীয়রা দ্রুতই সেতুটি পুরোপুরি চালুর দাবি জানিয়েছেন। 

সূত্র জানায়, পৌরসভার অর্থায়নে কচুয়াডাঙ্গা চরপাথলী এলাকায় সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সনি এন্টারপ্রাইজ। প্রায় তিন বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগস্থলে মাটি ভরাট করা হয়নি। সেতুটি নির্মাণে চার কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুই পাশে সড়ক থাকলেও সেতুটি স্থানীয়দের কোনো কাজে আসছে না। দু’পাশে ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশেপাশে।

স্থানীয়রা বলেন,  ঠিকাদার কাজ ফেলে রেখে চলে গেছে। সেতুটি চালু না হওয়ায় আমাদের চলাচলে কষ্ট থেকেই গেল। অসুস্থ মানুষ, মরদেহ আনা-নেওয়া করতে সমস্যা হচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই মই দিয়ে সেতুতে উঠতে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। মাঝে-মধ্যে বাঁশ ভেঙে গেলে যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

মই বেয়ে সেতুতে ওঠানামা ঝুঁকিপূর্ণ/ঢাকা ট্রিবিউন

স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষার্থী আবির সরকার বলেন, “সেতুতে মই দিয়ে ওঠা কষ্টকর। বয়স্ক মানুষের দুর্ভোগে বেশি। আবার মইয়েরও এক পাশ ভাঙা।”

স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক বলেন, “মই দিয়ে ব্রিজে উঠতে গিয়ে অনেকে পায়ে লোহার পেরেক ঢুকে আহত হচ্ছেন। পৌরসভার কাছে আবেদন করেও কাজ হয়নি। রাতে চলাচল করতে অনেক সমস্যা হচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, “সেতুটি দীর্ঘদন ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। কী কারণে এভাবে ফেলে রাখা হয়েছে তা আমরা জানি না।”

টাঙ্গাইল পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মেহেদী হাসান আলীম বলেন, “মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাঁশের সাঁকো সরিয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করলেও দুই পাশে অ্যাপ্রোচের মাটি ভরাট করেনি। কাজ ফেলে রেখে চলে গেছে। ঠিকাদারের সঙ্গে একাধিকবার বসার চেষ্টা করলেও কোনো কাজ হয়নি।”

তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সনি এন্টারপ্রাইজের মালিক আসাদুল্লাহ খান সাঈদ উল্টো দোষারোপ করেছেন পৌরসভাকে। তবে দু’পাশে অ্যাপ্রোচের মাটি ভরাট না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, “এ বিষয়ে আমি সামনাসামনি আপনার সঙ্গে কথা বলব।”

পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি আর সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে কথা বলতে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

About

Popular Links